তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি গুদামের ছাদ ভেঙে কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু ও বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর এবার অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার পরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে সিপিএম।
বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানান, তাঁদের শ্রমিক সংগঠন বন্দর কর্মী ইউনিয়ন চলতি মাসের শুরুতেই বন্দর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছিল। সংগঠনের অভিযোগ ছিল, গুদাম নির্মাণের সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন ঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। সেই অভিযোগ সংবলিত একটি চিঠিও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
সেলিমের দাবি, নির্মাণকাজের সময় শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে একাধিক উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় দায়িত্ব কার, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র জমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। নির্মাণ সংক্রান্ত অনুমোদন, নকশা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় দেখার দায়িত্ব ছিল কলকাতা পুরসভার। ফলে নির্মাণ সংক্রান্ত ত্রুটির দায় তাদের নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বেশ কয়েক মাস ধরেই সেখানে গুদাম তৈরির কাজ চলছিল। বুধবার দুপুরের দিকে আচমকাই ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। সেই সময় বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সকাল থেকেই কাঠামোর কিছু অংশ অস্বাভাবিকভাবে কাঁপছিল। কয়েকজন শ্রমিক বিষয়টি পরীক্ষা করতে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই ছাদ ভেঙে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা এখনও উদ্বেগজনক বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বন্দর এলাকার ওই জমি একটি বেসরকারি সংস্থার কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর ধরে সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল। কী কারণে ছাদ ধসে পড়ল, নির্মাণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার পর শ্রমিক নিরাপত্তা এবং নির্মাণের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


