পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার গঠনের পর এখনও তিন মাসও কাটেনি। এর মধ্যেই দলের অন্দরের বিরোধ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এবার হুগলির তারকেশ্বরে বিজেপির এক নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকে ওই নেতার স্ত্রী ও নাবালক ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারী বিজেপি নেতা গণেশ চক্রবর্তী আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি। তাঁর দাবি, সোমবার রাতে পরিচিত কয়েকজন আচমকা তাঁর চাঁপাডাঙার কলেজ রোডের বাড়িতে ঢুকে পড়েন। এরপর ঘরের আলো বন্ধ করে স্ত্রী মিতা চক্রবর্তী এবং তাঁদের ছেলেকে মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর ছেলের মাথায় আঘাত লাগে বলেও দাবি করেছেন গণেশ।
গণেশের স্ত্রী মিতাও বিজেপির সক্রিয় কর্মী। তিনি তারকেশ্বর-৪ নম্বর মণ্ডলের সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। হামলার পর প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ। পরে আহত মা ও ছেলেকে চিকিৎসার জন্য তারকেশ্বর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর তারকেশ্বর থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন গণেশ। তাঁর দাবি, হামলার পিছনে দলেরই কয়েকজনের হাত রয়েছে। সম্প্রতি তারকেশরের প্রাক্তন পুরপ্রধান উত্তম কুন্ডুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন তিনি। সেই কারণেই তাঁর উপর ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন এই বিজেপি নেতা।
গণেশের অভিযোগ, বিজেপিতে সম্প্রতি যোগ দেওয়া কয়েকজন এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম প্রকাশ্যে বলেননি। তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পানের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন গণেশ। তাঁর বক্তব্য, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত।
এই ঘটনা সামনে আসার পর দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। কয়েক দিন আগেই দলের নেতাকর্মীদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তার পরেই দলের এক নেতার পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপির অন্দরে।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের কাছে এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাঁরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দলের এক নেতার বাড়িতে ঢুকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগকে ঘিরে তারকেশ্বরের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত বিরোধ, সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব নাকি রাজনৈতিক কারণ—হামলার আসল কারণ কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে আশা গিয়েছে।


