তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচনে জিতে পরে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে নাম লেখানো ২০ সাংসদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে করা মামলায় বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ওই সাংসদদের নোটিস পাঠিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে লোকসভার স্পিকার ও সেক্রেটারি জেনারেলের কাছ থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য চাওয়া হয়েছে।
এই মামলা করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন পক্ষ। দলের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে প্রথমে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীকে ভোটে জিতে সাংসদ হওয়ার পর ওই ২০ জন অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলবদল বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জানা গিয়েছে, গত ১৯ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সাংসদদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন করেন। পরে ২৭ জুলাই ফের চিঠি দিয়ে আগের আবেদনের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্পিকারের কাছ থেকে কোনও সিদ্ধান্ত বা জবাব পাওয়া যায়নি বলে তৃণমূলের অভিযোগ।
এর পরেই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় দল। লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ না হওয়াকে সামনে রেখে আদালতে মামলা করা হয়। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটির প্রথম শুনানি হয়।
শুনানির শুরুতেই ২০ জন অভিযুক্ত সাংসদকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি লোকসভার স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালতের এই পদক্ষেপকে মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাগত জানিয়েছেন।
কল্যাণের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নোটিস জারি করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর মতে, ভোটারদের দেওয়া রায় এবং দলীয় প্রতীকের গুরুত্ব রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অবস্থান বদলের অভিযোগ উঠলে তার আইনি পরিণতি নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
এই মামলাকে ঘিরে তৃণমূল ও অভিযুক্ত সাংসদদের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, আগামী দিনে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়া বিধায়কদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। আদালতে অভিযুক্ত সাংসদ, স্পিকার এবং লোকসভার প্রশাসনের বক্তব্য সামনে আসার পরই এই মামলার পরবর্তী গতিপথ স্পষ্ট হবে।


