কেন্দ্রীয় বাজেটে চা শিল্পের জন্য কোনও স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় উত্তরবঙ্গের তরাই ও ডুয়ার্স জুড়ে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। কাজু, নারকেল ও পশুপালনের মতো ক্ষেত্রের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা হলেও চা শিল্পকে নিয়ে কোনও আলাদা পরিকল্পনা বা বরাদ্দের কথা উল্লেখ না করায় হতাশ শ্রমিক ও বাগান মালিকরা।
চা বলয়ের মানুষের দাবি, এই শিল্পই উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের লক্ষাধিক পরিবার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চা বাগানের ওপর নির্ভরশীল। দেশের মোট চা উৎপাদনের বড় অংশ আসে এই অঞ্চল থেকেই। তা সত্ত্বেও বাজেটে এই খাতের উন্নয়ন বা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও দিশা না থাকায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন-সহ একাধিক শ্রমিক সংগঠন কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছে। সংগঠনের নেতা তিলক ছেত্রী বলেন, সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে চা শ্রমিকদের জন্য কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তাদের মতে, ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আবাসন ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলি এখনও উপেক্ষিত।
কোভিডের পর বহু চা বাগান আর্থিক সমস্যায় পড়েছিল। অনেক বাগান দীর্ঘদিন বন্ধও ছিল। সেগুলি চালু করার জন্য কোনও বিশেষ সহায়তা বা পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের কথা বাজেটে নেই। দার্জিলিং চায়ের মানোন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং বা বিদেশের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও কোনও বরাদ্দ ঘোষণা হয়নি।
শ্রমিক অজয় মহালি বলেন, বাজেট নিয়ে অনেক আশা ছিল, কিন্তু শেষে হতাশাই মিলিছে। এখন দাবি আদায়ে আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই।
পর্যটন ও কাঠ শিল্প কমে যাওয়ায় চা শিল্পই উত্তরবঙ্গের ভরসা। তাই এই খাতকে অবহেলা করলে গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিতেই প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি বদলাতে বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে শ্রমিক সংগঠনগুলি।


