তেলেঙ্গানায় সাম্প্রদায়িক অশান্তির ঘটনা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন এআইএমআইএম প্রধান ও হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। কামারেড্ডি জেলার বানসওয়াড়ায় সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে ওয়াইসি জানান, তিনি ইতিমধ্যেই কামারেড্ডির পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে এফআইআর দায়ের করে সুষ্ঠু তদন্ত শুরু করার দাবি জানান তিনি। তাঁর প্রশ্ন, “কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এত বড় জমায়েত হল কী করে?” সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওর উল্লেখ করে তাঁর অভিযোগ, সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের নিশানা করা হয়েছে।
ওয়াইসি আরও দাবি করেন, ঘটনায় ধৃত এক অভিযুক্ত, যিনি পুলিশের হেফাজতে ছিলেন, তাকেও স্থানীয় দুষ্কৃতীরা মারধর করেছে। এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত বলেই মত তাঁর।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে দলের স্থানীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন হায়দরাবাদের সাংসদ। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মালিকানাধীন দোকান ও ব্যবসায়ীদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার হিসেব তৈরির কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দাবি তুলেছেন ওয়াইসি। দলের তরফেও সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সদাশিবপেটে ‘মসজিদ-এ-মৌলানা’ ভাঙার ঘটনাতেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জমির মালিক গত দু’বছর ধরে ওই জমির দখলে ছিলেন। হঠাৎ করে সেটিকে ‘ইনাম জমি’ বলে চিহ্নিত করে ভেঙে দেওয়া হল কেন—তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
তেলেঙ্গানার বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এই মন্তব্য করলেন ওয়াইসি। রাজ্য প্রশাসন এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে পরিস্থিতি যে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নিচ্ছে, তা স্পষ্ট।

