ভাষণে মুসলমান, যুবকদের কাজ আর ধর্ষণের পুরনো সুর—এই নিয়েই আবার ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মালদহের সভা থেকে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আট বছর পেরিয়েও দেশের শাসনব্যবস্থায় নতুন কিছু বলার নেই বিজেপির হাতে। আছে শুধু পুরনো ঘৃণার কপি, নতুন মাইকে বলা।
দেশ যখন মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব আর সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় জর্জরিত, তখন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে একটাই চরিত্র—‘মুসলমান’। কখনও সরাসরি, কখনও ঘুরিয়ে। কাজ নেই যুবকদের—তার দায় কে নেবে? ধর্ষণ বাড়ছে—তার দায় কোন নীতির? এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিজেপি আবার সেই চেনা বিভাজনের রাজনীতিতে ফিরেছে।
মালদহে দাঁড়িয়ে মোদি যা বললেন, তা নতুন কিছু নয়। এটা আরেকবার প্রমাণ করল—বিজেপির রাজনীতি উন্নয়নের নয়, শত্রু তৈরি করার রাজনীতি। ভোট চাইতে হলে দরকার একটা ‘অন্য’। কখনও মুসলমান, কখনও সংখ্যালঘু, কখনও ভিন্নমতাবলম্বী।
যুবকদের কাজ নেই—এটা সত্য। কিন্তু সেই কাজ কে নষ্ট করেছে? নোটবন্দি, ভুল জিএসটি, কর্পোরেট সুবিধা আর সরকারি নিয়োগ বন্ধ—এসবের দায় কি মুসলমানদের? ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে—কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে অভিযুক্তদের মালা পরানো হচ্ছে কেন? মন্ত্রীদের মুখে ‘ভুল হয়ে গেছে’ বলেই কি সব শেষ?
মালদহের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী আবার বুঝিয়ে দিলেন, তিনি আর প্রধানমন্ত্রী নন—তিনি একজন ফুলটাইম নির্বাচনী প্রচারক। তাঁর ভাষায় রাষ্ট্রনায়কের দায় নেই, আছে দলীয় বিদ্বেষ।
বিজেপির সমস্যা বাংলার মানুষ নয়, সমস্যাটা গণতন্ত্র। তাই তারা প্রশ্নের জবাব দিতে পারে না, শুধু অভিযোগ তোলে। তাই তারা কাজের হিসাব দিতে পারে না, শুধু ভয় দেখায়।
আজ দেশের মানুষ প্রশ্ন করছে— কাজ কোথায়?
দাম কেন বাড়ছে?
মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়?
এই প্রশ্নগুলোর কোনও উত্তর নেই বিজেপির কাছে। তাই আবার মুসলমান, আবার ঘৃণা, আবার বিভাজন।
মোদি আছেন মোদিতেই।
দেশ?
সে থাক—ভাগ হয়ে।


