মুর্শিদাবাদের তেঁতুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গুধিয়া গ্রামে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, তালিকায় একসঙ্গে দশ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’ থাকায় গভীর মানসিক চাপে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৭১ বছরের আব্দুল শেখের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে অবরোধ করেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, সম্প্রতি ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন আব্দুল শেখের নামে শুনানির নোটিস আসে। নামের বানানে সামান্য ভুল থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তিনি বিডিও অফিসে হাজির হয়েছিলেন। তবে শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, তার পাশাপাশি স্ত্রী, চার ছেলে ও পুত্রবধূদের নামের পাশেও ‘বিবেচনাধীন’ লেখা রয়েছে। এতে গোটা পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
ঘনিষ্ঠরা জানান, নাম বাদ পড়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় কয়েক দিন ধরেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন আব্দুল। ভবিষ্যতে কী হবে, কোথাও যেতে হবে কি না, এমন নানা প্রশ্ন তাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিচিতদের সঙ্গেও তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, এই মানসিক চাপের মধ্যেই রবিবার রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হৃদ্রোগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
স্ত্রী হাজেরা বিবি বলেন, পরিবারের সবার নাম ‘বিচারাধীন’ থাকায় তিনি ভীষণ চিন্তায় ছিলেন। সেই উদ্বেগই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় বলে তাদের ধারণা।এ ঘটনার পর সোমবার সকালে হরিরামপুর-বহরমপুর রাজ্য সড়কে অবরোধ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তালিকা প্রণয়নে অসংগতি দূর করতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।


