
“আমি গাই ঘরে ফেরার গান
উতলা কেন এ প্রাণ,
শুধু যে ডাকে, ফিরে আমাকে…”
একমাত্র গৃহহীনরাই জানে বাড়ি ফেরার প্রকৃত মর্ম। ৯ মাস ব্যাপী মহাকাশ ভ্রমনের পর অবশেষে পৃথিবীতে অবতরণ করলেন সুনীতা উইলিয়ামস। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫ টা ৫৭ মিনিট নাগাদ ফ্লরিডা উপকূলে এসে পৌঁছন সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর। ভারতের ঘড়িতে তখন ভোর ৩টে ২৭ মিনিট।

সুনিতারা মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার প্রথম থেকে ছিল বেশ উদ্বেগ জনক। মহাকাশ যাত্রার অভিজ্ঞতা যে খুব একটা সুখকর হয়েছে তেমনটাও নয়। এই যাত্রার পরতে পরতে লুকিয়ে ছিল বিপদ এবং মৃত্যুর আশঙ্কা। বোয়িং দ্বারা নির্মিত প্রথম মহাকাশযানের ছিল হাজার এক সমস্যা। পরীক্ষামূলক উড়ানে লক্ষ্য করা যায় বেশ কিছু যান্ত্রিক গোলযোগ। প্রাণের চূড়ান্ত ঝুঁকি নিয়ে কোনক্রমে মহাকাশে পৌঁছেছিলেন দুই নভোচর, সুনীতা ও বুচ। এরপর আনুমানিক এক সপ্তাহে মহাকাশযান ঠিক করা হবে এমনটাই অনুমান করেছিল সকলে। অবশেষে তা সম্ভব না হওয়ায় শেষমেষ সুনীতা এবং বুচকে মহাকাশে ফেলে রেখে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয় মহাকাশযানটিকে। এরপর মহাকাশেই সুদীর্ঘ ৯ মাসের প্রতীক্ষা।

“ফিরবো বললে ফেরা যায় নাকি
পেরিয়েছো দেশ কাল জানো নাকি এ সময়”

মহাকাশ পাড়ি দেওয়ার সময় তাদের নির্ধারিত ফেরার সময় ছিল ১৪ই জুন ২০২৪। স্টারলাইনে যান্ত্রিক গোলযোগ থাকায় নাসা ২০২৪ এর আগস্ট মাসে ঘোষণা করে, সুনীতাদের না নিয়েই স্টারলাইন মহাকাশ থেকে ফিরে আসবে। এরপর ২০২৪ এর সেপ্টেম্বর মাসে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছন মহাকাশচারী আলেকজান্দ্র গর্বুনড ও নিক হগ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ নাসা জানিয়ে দেয় ফেব্রুয়ারির বদলে মার্চে ফেরানো হবে দুই মহাকাশচারীকে। এরপর আরো দুমাস মহাকাশে প্রতীক্ষার পর, যখন স্পেসএক্স ক্রু১০, মিশন শুরুর ৪৫ মিনিট আগে বাতিল হয়ে যায়। অবশেষে ১৬ ই মার্চ ২০২৫, স্পেস স্টেশনে সফলভাবে অবতীর্ণ করানো হয় স্পেসএক্স ক্রু১০- কে। অবশেষে আজ, বুধবার ১৯শে মার্চ ২০২৫ সালে বাড়ি ফেরার উদগ্র বাসনার অবসান ঘটে। তাইতো আজও মাত্র গৃহহীন রাই জানে বাড়ি ফেরার প্রকৃত মর্ম।