২০২৬ সালের বাংলা বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রচারের ময়দানে প্রার্থীদের অভিনব কৌশল নতুন নয়। তবে প্রচারে গিয়ে সরাসরি অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পড়া ঘিরে এবার তীব্র বিতর্ক তৈরি হল পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হাজারি বাউড়ি-র এই কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
শনিবার প্রচারে বেরিয়ে তিনি রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছন। সেই সময় দুর্ঘটনায় আহত এক যুবকের অস্ত্রোপচার চলছিল। অভিযোগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতিতেই তিনি সরাসরি অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করেন এবং হাতে গ্লাভস পরে চিকিৎসা প্রক্রিয়া তদারকি করেন। ঘটনাস্থলে ছিলেন এক চিকিৎসক, দুই নার্স, দুই ওয়ার্ড বয় এবং একজন ড্রেসার।
পেশায় শিক্ষক এই তৃণমূল প্রার্থীর আগামী ২৩ তারিখ নির্বাচনী লড়াই। তার আগে প্রচারে ‘ভাইরাল’ হওয়ার প্রবণতার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে কোনও অ-চিকিৎসক ব্যক্তিকে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হল? বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে উদ্যোগী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
এদিকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া পদক্ষেপ করেছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এক চিকিৎসক-সহ মোট ছয় স্বাস্থ্যকর্মীকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই নার্স, দুই ওয়ার্ড বয় এবং একজন ড্রেসার।
ঘটনা নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি হাজারি বাউড়ি। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে—ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা কি নির্বাচনী আচরণবিধি ও চিকিৎসা নিরাপত্তাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে?


