তেলেঙ্গানার করিমনগরে অবস্থিত সাতবাহন বিশ্ববিদ্যালয়-কে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কলা বিভাগের অধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারিত দলিত অধ্যাপক তথা সমাজকর্মী সুরপল্লী সুজাতা অভিযোগ করেছেন, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ‘আরবান নকশাল’ আখ্যা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার ও মানসিক হয়রানির শিকার করা হচ্ছে।
দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তেলেঙ্গানার বিভিন্ন গণআন্দোলনে সক্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত সুজাতা সমাজের প্রান্তিক ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছেন। তাঁর দাবি, আদর্শগত বিরোধিতার জেরে তাঁকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে।
সমাজবিজ্ঞানের এই অধ্যাপিকার বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং ভিন্নমত পোষণ করলেই ‘আরবান নকশাল’ তকমা দেওয়া হচ্ছে—যার কোনও স্পষ্ট সংজ্ঞাই নেই।
সুজাতার দাবি, ২০১৯ সালে এক চুক্তিভিত্তিক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়। বিভাগীয় তদন্তে ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে সরানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
পরবর্তীতে একটি শিক্ষাসফরকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মাওবাদী যোগাযোগের অভিযোগ ছড়ানো হয়। তবে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্তে সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।
২০২৫ সালে ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রসঙ্গে শান্তির পক্ষে একটি ফেসবুক পোস্ট করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
অভিযোগ, এরপর অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এর একদল কর্মী ও কিছু বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তাঁকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ ও হেনস্তা করে। সুজাতা পরে ক্ষমাপ্রার্থনা করলেও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
অধ্যাপিকার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সিসিটিভির মাধ্যমে তাঁর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং ছাত্রছাত্রীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে তাদেরও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা জানানো হলেও তিনি এটিকে প্রতিহিংসামূলক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য উমেশ কুমার-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষককে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং অপপ্রচার বন্ধ হয়নি। ইতিমধ্যে তিনি স্থানীয় পুলিশ ও জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শিক্ষাবিদদের সংগঠন সেভ এডুকেশন কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একজন দলিত নারী অধ্যাপককে প্রশাসনিক পদ থেকে সরানো শিক্ষাঙ্গনের স্বাধীনতার পক্ষে উদ্বেগজনক। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব রক্ষা করা এখন অত্যন্ত জরুরি।


