কলকাতা, ২৯ জুন ২০২৫: — কসবা আইন কলেজ ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। দলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার সরাসরি দলীয় সহকর্মী ও কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে বলেছেন, “আমি সব নারীকে সম্মান করি, কিন্তু মহুয়া মৈত্রকে ঘৃণা করি।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ।

দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার, যখন কল্যাণ কসবা ধর্ষণ ঘটনায় বলেছিলেন, “বন্ধু যদি বান্ধবীকে ধর্ষণ করে, তাহলে পুলিশ কীভাবে নিরাপত্তা দেবে?” এই বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে তৃণমূলের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল জানায়, এটা তাঁর “ব্যক্তিগত মত” এবং দল এ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে । পরদিন মহুয়া মৈত্র একটি পোস্টে “নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের নিন্দা” করার সময় নাম না করেই কল্যাণ ও মদন মিত্রকে ইঙ্গিত করেন ।

মহুয়ার সমালোচনার জবাবে কল্যাণ পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে সরষে ভাঙেন:
১. ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ: “আপনি এক মহিলার ৪০ বছরের বিবাহিত জীবন নষ্ট করে সেই পুরুষকে (পিনাকী মিশ্র) বিয়ে করেছেন” – বার্লিনে সম্প্রতি মহুয়ার বিয়াকে কেন্দ্র করে এই কটাক্ষ ।
২. নৈতিক দায়িত্বহীনতা: “যাঁকে পার্লামেন্টের এথিক্স কমিটি বহিষ্কার করে, তাঁকে ঘৃণাই করি” – গিফ্ট কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে ।
৩. অভ্যন্তরীণ বাধা: “কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে দিদি আমাকে প্রচারে পাঠাতে চাইলে, মহুয়া আইপ্যাককে বলে আমার যাওয়া আটকান” ।
৪. নারী নেতৃত্ব দমনে ভূমিকা: “মহুয়া নিজের কেন্দ্রে অন্য নারী নেত্রীদের উঠতে দেন না” ।
৫. দলীয় বিভাজন: “২০১১ সালে এক বর্ষীয়ান মহিলা সাংসদ মহুয়াকে প্রার্থী করতে চাইলে, দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন” ।

দুজনের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। গত এপ্রিলে সংসদ চত্বরে এক নারী সাংসদের প্রতি কল্যাণের আচরণ নিয়ে বিবাদের সময় মহুয়া তাকে “নারদার চোর” আখ্যা দিয়েছিলেন । কল্যাণও পাল্টা বলেছিলেন, “দুই নম্বরিদের এক জায়গায় হতে বেশি সময় লাগে না”।

এই বিবাদ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। দলের অন্দরমহলে এই বিবাদ শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিত বলে মনে করছেনরাজনৈতীক বিশ্লেষকরা । মহুয়া এখনও কল্যাণের সর্বশেষ মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে, দলের একাংশ এই প্রকাশ্য কোন্দলকে “অনাকাঙ্ক্ষিত ও সময়োচিত নয়” বলে মন্তব্য করেছে।


