মুর্শিদাবাদের রানিনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য আইনাল হকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে, যা দেখিয়ে দিচ্ছে রাজ্যের শাসক দলের নেতাদের অত্যাচার কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবন শেষ করে দিচ্ছে। মৃত শিক্ষকের পরিবারের দাবি অনুযায়ী এই ঘটনায় রানিনগর II পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, তৃনমূল নেতা আইনাল হক স্কুলের হেডমাস্টার উজ্জ্বল সিংহ রায়কে চুরির মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে ৩৫ লক্ষ টাকা দাবি করে ও বারংবার হুমকি ও মানসিক চাপ দিতে থাকে, যা ঐ শিক্ষক সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই গ্রেফতার করেছে, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের এমন নেতাদের এমন কার্যকলাপে কেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নীরব? এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, তৃণমূলের শাসনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মুখে।
উজ্জ্বলের স্ত্রী পলি সিংহ রায় বলেছেন, “তৃণমূল নেতা বারবার ধমক দিয়ে বলতেন, তোকে কারণ ছাড়াই জেলে পুরব, চোর প্রমাণ করব। ৩৫ লক্ষ দিলে ছেড়ে দেব। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে আমার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আত্মহত্যা করেন।” গত মঙ্গলবার সকালে উজ্জ্বলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়, এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮, ৩৫১, ৩৫২ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনা তৃণমূলের নেতাদের অত্যাচারের এক জ্বলন্ত উদাহরণ, যা দেখিয়ে দিচ্ছে দলের ভিতর কতটা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে।
বিজেপি নেতা সজল ঘোষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, “তৃণমূলের নেতারা স্কুলের হেডমাস্টারকে ধমকিয়ে দুর্নীতি করছে। এরা জনপ্রতিনিধি হয়ে কী করছে? দলকে এর দায় নিতে হবে। এই সন্ত্রাসের শাসন শেষ করতে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।” এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, তৃণমূলের শাসনে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা অসহায়। দলের নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ লোকদের হয়রান করছে, আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এমন ঘটনা বারবার দেখা যাচ্ছে, যা রাজ্যের গণতান্ত্রিক চরিত্রকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। পরিবারের দাবি, দোষীকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, কিন্তু তৃণমূলের এই সংস্কৃতির সমূলে বিনাশ না করলে এমন অত্যাচার থামবে না।


