পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি, আর শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন জেলায় একাধিক অভিযানে নেমেছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হচ্ছে একের পর এক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে।পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় সম্প্রতি পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতা। তাঁদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগ ছিল। জোর করে টাকা আদায়, ভয় দেখানো, এমনকি জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন যুব তৃণমূলের এক নেতা এবং ছাত্র পরিষদের এক পদাধিকারী। তাঁদের সঙ্গে আরও এক আত্মীয়কেও আটক করা হয়েছে। আদালত অভিযুক্তদের পুলিশ ও জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।এদিকে, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতেও একই ধরনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের এক প্রাক্তন পঞ্চায়েত নেতা। জানা গিয়েছে, একটি সংগঠনের সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তিনি টাকা তুলছিলেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।বর্ধমান শহরেও এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তিনি মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন এবং তা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরে এক কাউন্সিলরকেও আটক করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, এক মহিলার বাড়িতে জোর করে ভাড়াটে ঢুকিয়ে দেওয়া এবং পরে তা নিয়ে নিজেই মীমাংসার চেষ্টা করা।তবে এই সব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, বিরোধী দলকে চাপে রাখতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে নেতা-কর্মীদের। যদিও রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।এদিকে, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর এলাকাতেও অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে আরও দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলা এই অভিযানে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
Popular Categories


