হরিয়ানায় ফের গোরক্ষার নামে হিংসার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে দুই মুসলিম যুবককে মারধর করা হচ্ছে, অপমান করা হচ্ছে এবং জোর করে গোমূত্র খাওয়ানো হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।জানা গেছে, এই সপ্তাহেই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, “টিম সোনু হিন্দু পালওয়াল” নামে একটি স্বঘোষিত গোরক্ষা দল ওই দুই যুবককে আটকায়। তাদের বিরুদ্ধে গরু পাচারের সন্দেহ করা হয়। এরপর ওই যুবকদের একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলিতে দেখা যায়, যুবকদের শুধু মারধরই নয়, তাদের গালিগালাজ করা হচ্ছে এবং জুতো চাটতে বাধ্য করা হচ্ছে। হামলাকারীরা পুরো ঘটনাটি নিজেরাই মোবাইলে রেকর্ড করে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন অভিযুক্ত একটি তরল তাদের মুখে ঢালছে এবং সেটি পান করতে বাধ্য করছে। পাশে থাকা অন্যরা নানা কটূক্তি করছে।এছাড়া হামলার সময় “জয় শ্রী রাম” স্লোগান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। একটি ভিডিওতে শোনা যায়, একজন অভিযুক্ত বলছে, “মদের মতো করে এটা খাও।” এই ধরনের আচরণে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, মানবাধিকার কর্মী এবং বিরোধী নেতারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত অমানবিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু নির্যাতন নয়, বরং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় তৈরি করার চেষ্টা। তাঁরা আরও বলছেন, প্রকাশ্যে এইভাবে ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বোঝা যায়, দোষীদের মধ্যে শাস্তির ভয় কমে গেছে।হরিয়ানা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গোরক্ষার নামে এই ধরনের স্বঘোষিত দলগুলির কার্যকলাপ নতুন নয়। বিশেষ করে গরু ব্যবসায়ী বা পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত মুসলিমদের বারবার এমন সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।সমালোচকদের প্রশ্ন, কেন কিছু ব্যক্তি নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিচ্ছে? তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জানা গেছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ভিডিওগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Popular Categories


