বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বজায় রয়েছে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস বারবার দাবি করেছে, একাধিক কেন্দ্রে গণনা প্রক্রিয়ায় গরমিল হয়েছে এবং তাদের প্রার্থীদের পরিকল্পিত ভাবে হারানো হয়েছে। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই এই ফলাফল পুরোপুরি মেনে নিতে নারাজ। তাঁর অভিযোগ, বহু আসনে ভোট গণনার সময় অনিয়ম হয়েছে এবং সেই কারণেই দলের ভরাডুবি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল। দলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু কেন্দ্রে নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা দায়েরের মতো তথ্যপ্রমাণ হাতে এসেছে। তবে আইনি লড়াই শুরু করার আগে নতুন সমস্যার মুখে পড়েছে তৃণমূল। কারণ, অনেক পরাজিত প্রার্থীই নির্বাচনী পিটিশন দায়ের করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
দলের অন্দরে এই বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের প্রার্থীদের অনীহা তৃণমূল নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, বহু বছর ধরে দল ও ক্ষমতার সুবিধা নেওয়ার পর এখন অনেকেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হলে আইনি পথে এগোতে হবে, কিন্তু সেই লড়াইয়ে অনেক প্রার্থীই পাশে দাঁড়াতে চাইছেন না।
এদিকে স্নেহাশীষ চক্রবর্তীকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সমাজমাধ্যমে করা তাঁর পোস্টে স্নেহাশীষ – এর ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হলেও, সেই বার্তায় কটাক্ষের সুরও ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের মত। তিনি লেখেন, ভবিষ্যতের পথ মসৃণ হোক এবং এতদিনের বিতর্ক ও অভিযোগ হয়তো এবার মুছে যাবে। কল্যাণের এই মন্তব্য ঘিরেও তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্রের পরাজিত প্রার্থী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর নামও এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, তাঁকে মামলা করার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। এমনকি রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন কল্যাণ। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি স্নেহাশিস।
অন্যদিকে, তৃণমূলের তরুণ নেতা ও আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় দলকে আইনি প্রস্তুতিতে সাহায্য করছেন। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি নিয়মিত দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং বিভিন্ন জেলার তথ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত রয়েছেন বলে খবর। দলীয় সূত্রের দাবি, মামলার সমস্ত খরচ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা তৃণমূল দেবে, কিন্তু আদালতে আবেদন করার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদেরই নিতে হবে।
তৃণমূলের অভিযোগ, বহু জায়গায় ইভিএম সংক্রান্ত নথির সঙ্গে গণনার হিসাব মেলেনি। ভোটযন্ত্রের ব্যাটারির চার্জ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দল। এসব অভিযোগ সামনে এনে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হলেও, প্রার্থীদের একাংশের অনীহা এখন তৃণমূলের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


