এসএসসি কনস্টেবল (জিডি) পরীক্ষাকে ঘিরে ফের সমস্যার মুখে পড়লেন পরীক্ষার্থীরা। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিহারের মুজফ্ফরপুরে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্ধারিত দুই শিফটের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনায় হাজার হাজার পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে পৌঁছেও অনেকেই পরীক্ষা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্টাফ সিলেকশন কমিশনের সেন্ট্রাল রিজিয়নের তরফে জানানো হয়েছে, ২৫ মে আয়োজিত কনস্টেবল (জিডি) পরীক্ষা মুজফ্ফরপুরের আদর্শ পরীক্ষা কেন্দ্রে ঠিকমতো নেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই কেন্দ্রটি বিহার স্কুল এক্সামিনেশন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অন্তর্গত বিবি কলেজিয়েট ক্যাম্পাসে অবস্থিত। কমিশনের দাবি, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দ্বিতীয় শিফটের যেসব পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি এবং তৃতীয় শিফটের সমস্ত প্রার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এসএসসি সেন্ট্রাল রিজিয়ন। কমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর (পরীক্ষা) জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে পরীক্ষার দিন ঘোষণা করা হবে। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত অ্যাডমিট কার্ড কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে পরীক্ষা দিতে এসে সমস্যার মুখে পড়েন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, পরীক্ষা শুরুর অনেকক্ষণ পরেও কম্পিউটার চালু হয়নি। আবার কোথাও সার্ভারের সমস্যার কারণে লগইন করা যায়নি। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা না দিয়েই ফিরতে হয়েছে বহু প্রার্থীকে।
এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। ১৮ মে কনস্টেবল (জিডি) পরীক্ষার প্রথম শিফট প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বাতিল করা হয়। কানপুরের একটি অনলাইন পরীক্ষাকেন্দ্রে সেই সমস্যা দেখা দেয়। অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের আগে থেকে কোনও তথ্য না দিয়েই পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেদিন বহু পরীক্ষার্থী চরম অসুবিধার মধ্যে পড়েন।
এই ধারাবাহিক সমস্যায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই বলছেন, এত বড় জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় প্রযুক্তিগত অব্যবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে এমন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। তবে কমিশনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাঁদের পরীক্ষা বাতিল হয়েছে তাঁদের নতুন করে সুযোগ দেওয়া হবে। খুব শীঘ্রই নতুন পরীক্ষার দিন ও অ্যাডমিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


