
পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতার স্বামীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত রবিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। তিনি ইমেলের মাধ্যমে নারায়ণগড় থানা এবং পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর অতিক্রান্ত হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময়। এখনো অব্দি মূল অভিযুক্ত অধরা।
আসলে কি ঘটেছিল? ঘটনার বর্ণনা প্রসঙ্গে নির্যাতিতার স্বামী এফআইআর-এ যা লিখেছেন,
তা দেওয়া হল, তাদের পরিচয় অজ্ঞাত রেখে,
“আজ ৯/৩/২০২৫ আনুমানিক সকাল দশটা নাগাদ তৃণমূল এক নম্বর অঞ্চলে সভাপতি তথা গোবিন্দপুর সংসদের সদস্য লক্ষীকান্ত শিট পুরনো একটি বিবাদের মীমাংসা অজুহাতে আনার স্ত্রী কে স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়ে ডেকে পাঠায় একটি দরখাস্ত জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরে তার উপর পাশবিক অত্যাচার ও ধর্ষণ ঘটায় লক্ষীকান্ত শিট ও তাকে সাহায্য করে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা শক্তি ভূঁইয়া আমার স্ত্রীকে অচৈতন্য অবস্থায় পার্টি অফিস থেকে অন্যান্য তৃণমূল কর্মকর্তাদের সাহায্যে উদ্ধার করে। নারায়ণপুর স্বাস্থ্যকন্দ্রতে প্রথমে ও পরে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতলে নিয়ে আসি এবং মেদিনীপুরে স্ত্রীর জ্ঞান ফিরলে সে জানায় যে তার উপর বর্বর রচিত নির্যাতন হয়। যৌনাঙ্গে চিপসগুলি ঢুকিয়ে ভয়ংকর ভাবে ধর্ষণ করা হয়। তাই লক্ষীকান্ত শিট ও শক্তি ভূঁইয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানাচ্ছি।”

এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের নারায়ণগড়ের অঞ্চল সভাপতি। তবে মঙ্গলবার অভিযুক্ত অঞ্চল সভাপতি ঘনিষ্ঠ সূর্যকান্ত অট্টের নেতৃত্বে একটি মিছিল আয়োজন করা হয়। তৃণমূল নেতারা ইতিমধ্যে অভিযুক্ত অঞ্চল সভাপতিকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছে। পুলিশ সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বিএনএস-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মহিলাকে অন্যায় ভাবে আটকে রাখার জন্য ১২৭ (২) ধারা এবং ধর্ষণের জন্য ৬৪ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
বিরোধীদের চোখা প্রশ্নের মুখে ক্রমে অস্বস্তি বাড়ছে রাজ্য সরকারের। বিরোধীরা ইতিমধ্যে দাবি করতে শুরু করেছে, রাজ্য সরকার তিলোত্তমা কাণ্ডে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের ফাঁসির দাবি চাইতে পারলে, এই ক্ষেত্রে মূল অভিযুক্তকে ফাঁসি দেওয়া হবে না কেন? তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা মঞ্চ থেকে ধর্ষকদের উদ্দেশ্যে করা বার্তা দিয়েছেন। তার মত অনুযায়ী, যেকোনো ধর্ষণকাণ্ডে ধর্ষকদের একটাই সাজা হওয়া উচিত, তা হল মৃত্যুদণ্ড। এক্ষেত্রে যদিও, পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতিকে ছাড়পত্র দিয়েছে তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা, এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী।
নির্যাতিতার স্বামী এনবিটিভি কে জানিয়েছেন, “স্ত্রী এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইতিমধ্যে স্ক্যান, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি হয়েছে। ডাক্তার বাবুরা রিপোর্ট দেবে বলেছেন। আমি তারই অপেক্ষায় রয়েছি।” ঘটনায় পুলিশি তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন করায় তিনি জানান, “৯ তারিখ এফ আই আর করার পর। পুলিশি তৎপরতা দেখা গেলেও, এখনো পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত অধরা।”
এর আগেও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে তৃণমূলের লক্ষীকান্ত শিট। সময়টা ২০১৮ সালের ২৩ শে আগস্ট, হঠাৎ নারায়ণগড় কেন্দ্রের তৃণমূলের কার্যালয় ঘটে যায় বোমা বিস্ফোরণ। বোমা মজুত এবং বিস্ফোরণের অভিযোগে ওঠে লক্ষ্মীর দিকে। এরপরে অন্য একটি মামলার জেরে লক্ষ্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই সময় তাকে দল থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। এরপর তাকে আবারো তৃণমূলে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ওই অঞ্চলের সভাপতি পদে মনোনীত করা হয়। লক্ষীকান্ত শিটের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, সাধারণ মানুষকে ধমকানো চমকানো এমন অজস্র অভিযোগ লেগেই রয়েছে।
বর্তমানে, তৃণমূলের পার্টি অফিসে মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত লক্ষীকান্ত শীটের উপর ক্ষোভে ফেটে পড়ছে বাসিন্দারা। ঘটনায় নারায়ণগড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সুপারের