আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক সহজ করতে উদ্যোগী হয়েছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। বেইজিং সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছেন। দুই দেশের শত্রুতার বদলে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সকালে বেইজিংয়ের তিয়েনানমেন স্কোয়ারের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান শি জিনপিং। সেখানে দুই নেতার বন্ধুত্বপূর্ণ শারীরিক ভাষা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। ট্রাম্পের এই সফরকে ঘিরে বেইজিংয়ে সাজ সাজ রব ছিল। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যাং জেং, যা দুই দেশের কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প শি জিনপিংকে বন্ধু হিসেবে সম্বোধন করে জানান, চীনের প্রেসিডেন্টের আতিথেয়তায় তিনি সম্মানিত। এই বৈঠককে তিনি অন্যতম বড় একটি সম্মেলন হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে শি জিনপিংও ইতিবাচক ভবিষ্যতের আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চীন ও আমেরিকার একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে সহযোগী হিসেবে কাজ করা উচিত। দুই শক্তিশালী দেশ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে এবং একে অপরের সমৃদ্ধিতে সাহায্য করে, সেই বার্তাই দেন জিনপিং।
দীর্ঘ ৯ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প বেইজিং সফর করছেন। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি চীন সফর করেছিলেন। গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, এই সফরের মাধ্যমে তার বরফ গলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে দুই নেতার বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গোটা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে এই বৈঠকের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।


