দিল্লির তুর্কমান গেট–রামলীলা ময়দান এলাকায় শতবর্ষী ফয়জ-ই-ইলাহী মসজিদের পাশের উচ্ছেদ অভিযানের ঘটনায় নতুন মোড়। প্রায় এক মাস পর, এই ঘটনার সূত্রে এক মুসলিম নারী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে জিজ্ঞাসাবাদ করল দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ৭ জানুয়ারির ভোরে শুরু হওয়া অশান্তি পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আইমান রিজভি নামে ওই তরুণী ভোররাতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, সেই ভিডিও দেখেই মসজিদ ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে। যদিও রিজভির দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং পাথর ছোড়ার ঘটনায় তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তিনি আগাম জামিন নিয়েছেন বলেও জানান। তাঁর কথায়, তিনি একজন সামাজিক কর্মী; ভিডিওটিতে উসকানিমূলক কিছু ছিল না এবং তা খুব বেশি মানুষের কাছেও পৌঁছয়নি।
রিজভি আরও অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পরদিন তিনি বাড়িতে না থাকাকালীন পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে সন্তানদের কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখে এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, একই সময়ে অনুরূপ ভিডিও পোস্ট করা আরও দু’জন এবং পাথর ছোড়ার অভিযোগে চিহ্নিত কয়েকজন এখনও পলাতক। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। তবে বাইরের লোকজনের জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারী দল। শীঘ্রই চার্জশিট পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন ভোরে দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) মসজিদের সংলগ্ন ০.১৯৫ একর জমির বাইরে থাকা কিছু নির্মাণ ভেঙে দেয়। প্রশাসনের দাবি, মসজিদ ও দরগাহ স্পর্শ করা হয়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কনকনে ঠান্ডায় টানা কয়েক ঘণ্টা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয় এবং লাঠিচার্জও চলে। তাঁদের কথায়, বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন, কেউ কেউ আহতও হন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, পুলিশের দিক থেকেই প্রথমে ইট ছোড়া হয়েছিল—তার পরই উত্তেজনা বাড়ে।
অন্যদিকে, সিভিলিয়ান ওয়েলফেয়ার চ্যারিটেবল ট্রাস্টের প্রধান মহম্মদ কামরান আদালতে আলাদা আবেদন জানিয়ে দাবি করেছেন, উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় মসজিদ কমিটি ও দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডকে পক্ষ করা হয়নি, যা জনস্বার্থ মামলার নিয়মের পরিপন্থী। তিনি উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলার অপব্যবহার রুখতে কঠোর বিধি প্রয়োগের আবেদন করেছেন। আদালত তাৎক্ষণিক নির্দেশ না দিয়ে তাঁকে সংশ্লিষ্ট মামলায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পরামর্শ দিয়েছে।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ১২ অভিযুক্তের জামিনের আবেদন নিয়ে দিল্লির একটি আদালত রায় সংরক্ষণ করেছে; ১৬ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধান্ত ঘোষণার সম্ভাবনা। তুর্কমান গেটের সরু গলিতে এখনও সেই সকালের আতঙ্কের রেশ টের পাওয়া যায়—কেউ বলছেন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়, কেউ বা চান দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক এলাকা। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।


