রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিকৃত প্যালেস্তাইন বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ ভারতের বিদেশনীতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। ইজ়রায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইনের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে, যেখানে বেআইনি দখলদারি চালানো রাষ্ট্রের সঙ্গে লেনদেন ও সামরিক সহযোগিতায় বাধা দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই ভারতের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফ্র্যাঞ্চেস্কা বলেন, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু দায়বদ্ধতা থাকে, যা সব দেশকেই মানতে হয়। তাঁর মতে, যেসব দেশের বিরুদ্ধে বেআইনি দখলদারির অভিযোগ রয়েছে, তাদের সঙ্গে ব্যবসা বা অস্ত্র লেনদেন আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান সেই নিয়মের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে প্যালেস্তাইনে সামরিক অভিযানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও সামনে এনেছেন এই রাষ্ট্রপুঞ্জ প্রতিনিধি। তাঁর দাবি, বর্তমানে আন্তর্জাতিক আদালতে এই বিষয়টি বিচারাধীন। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ইজ়রায়েলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ফ্র্যাঞ্চেস্কা। তাঁর কথায়, আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকেও তার দায় নিতে হতে পারে। শুধু ভারত নয়, যে সব দেশ ইজ়রায়েলকে সমর্থন করছে এবং যার ফলে প্যালেস্তাইনের ক্ষতি হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইজ়রায়েল ও হামাসের সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গাজ়া এবং ওয়েস্টব্যাঙ্ক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর সামনে এসেছে। বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহতের সংখ্যাও বিপুল। শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের কাছেও একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন ফ্র্যাঞ্চেস্কা। সেখানে প্যালেস্তিনীয়দের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। গ্রেফতার, নিখোঁজ হওয়া এবং বন্দিদের অবস্থার মতো বিষয়গুলিও তুলে ধরা হয়েছে সেই রিপোর্টে।
এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজ়রায়েল সফর নিয়েও দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়। সফরের সময় এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও প্রশ্ন তোলে। যদিও এই সমস্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


