Saturday, March 7, 2026
32.4 C
Kolkata

মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগে সরকারের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা, উত্তরপ্রদেশে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

উত্তরপ্রদেশে মাদ্রাসা নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগে আবারও উদ্বেগে মুসলিম সমাজ। এবার প্রশ্ন উঠছে—মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও কি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে রাজ্য সরকার?

সম্প্রতি বাহরাইচে এক অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু কল্যাণমন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর বলেন, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলিতে ভবিষ্যতে শিক্ষক নিয়োগ হবে রাজ্যস্তরের একটি কমিশনের মাধ্যমে। এতদিন এই নিয়োগ করত মাদ্রাসার নিজস্ব পরিচালন সমিতি। ২০১৬ সালের মাদ্রাসা বিধি অনুযায়ী এই অধিকার মাদ্রাসাগুলিরই ছিল।

মন্ত্রী এই কথা বলার দু’দিনের মধ্যেই সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তর ও মাদ্রাসা বোর্ড একটি নির্দেশ জারি করে। সেখানে জেলার সংখ্যালঘু আধিকারিকদের বলা হয়েছে, তিন দিনের মধ্যে সব সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসার শিক্ষকদের তালিকা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি জানতে চাওয়া হয়েছে, আগের নিয়োগে কোনও অনিয়ম বা আত্মীয় নিয়োগ হয়েছে কি না।

সরকারের বক্তব্য, কিছু মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে গড়বড়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু অনেক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এই যুক্তি মানতে নারাজ। লখনউয়ের এক মাদ্রাসা কর্তা বলেন, “আগে বলা হল অনিবন্ধিত মাদ্রাসা বন্ধ হবে, তারপর নানা কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল। এবার শিক্ষক নিয়োগেও হাত দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মনে হচ্ছে, এটা শুধু সংস্কার নয়, নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা।”

এখন উত্তরপ্রদেশে প্রায় ৫৬০টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা রয়েছে। সেখানে কাজ করেন প্রায় ৮,৪০০ জন শিক্ষক। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এর প্রভাব শুধু শিক্ষকদের ওপর নয়, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

বর্তমান নিয়মে শিক্ষক নিয়োগের আগে তিনটি ধাপ থাকে—মাদ্রাসার কমিটির অনুমোদন, জেলা স্তরে যাচাই এবং শেষে মাদ্রাসা বোর্ডের ছাড়পত্র। পরিচালকদের দাবি, আত্মীয় নিয়োগ আগেই নিষিদ্ধ। কোথাও ভুল হলে পুরো ব্যবস্থাকে বাতিল করা ঠিক নয়।

মুসলিম সংগঠনগুলির বক্তব্য, সংবিধান সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্বভাবে চালানোর অধিকার দিয়েছে। সেই অধিকার খর্ব করা হলে তারা তা মেনে নেবে না। তাদের আশঙ্কা, প্রশাসনিক সংস্কারের নামে মাদ্রাসার স্বাধীনতা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, উত্তরপ্রদেশে মাদ্রাসা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সরকার সত্যিই নিয়ম শৃঙ্খলা আনতে চাইছে, না কি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে—এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে মুসলিম সমাজ।

Hot this week

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার রেসিডেন্সিয়াল কোচিং অ্যাকাডেমির বড় সাফল্য, ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৮ জন

ভারতের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায়...

রমযান উপলক্ষে কলকাতার ৬৫ পাম এভিনিউর নিশা মসজিদে ইফতার মজলিশ

রমযান উপলক্ষে কলকাতার ৬৫ পামনিশা মসজিদে রমযান উপলক্ষে বিশেষ...

ইরানের মিসাইল হানায় ধ্বংশ হলো কুর্দি ঘাটি

ইরান ও ইরাক সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।...

কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বহু ভোটারের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এ, বাড়ছে উদ্বেগ!

২০২৬ সালের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের...

রমযান ও যাকাত: আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার শিক্ষা

রমযান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সময়।...

Topics

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার রেসিডেন্সিয়াল কোচিং অ্যাকাডেমির বড় সাফল্য, ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৮ জন

ভারতের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায়...

রমযান উপলক্ষে কলকাতার ৬৫ পাম এভিনিউর নিশা মসজিদে ইফতার মজলিশ

রমযান উপলক্ষে কলকাতার ৬৫ পামনিশা মসজিদে রমযান উপলক্ষে বিশেষ...

ইরানের মিসাইল হানায় ধ্বংশ হলো কুর্দি ঘাটি

ইরান ও ইরাক সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।...

কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বহু ভোটারের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এ, বাড়ছে উদ্বেগ!

২০২৬ সালের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের...

রমযান ও যাকাত: আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার শিক্ষা

রমযান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সময়।...

রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ এবং জেলা হাসপাতালগুলিতে ফের কাউন্সেলিং ছাড়া নিয়োগে বাড়ছে ক্ষোভ

রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে চিকিৎসক মহলে...

খামেইনির শাহাদাতের পর ইরানের ভবিষ্যৎ কোন পথে, বাড়ছে আন্তর্জাতিক কৌতূহল

পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে নতুন করে উত্তেজনা। ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র...

Related Articles

Popular Categories