উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন থেকে ‘বন্দে মাতরম্’ গান গাওয়া বাধ্যতামূলক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এর বিরোধিতা করবে, তারা দেশের ঐক্য ও সংহতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। গোরখপুরে জনতা দরশন অনুষ্ঠানে যোগী বলেন, যারা ‘বন্দে মাতরম্’-এর বিরোধিতা করছে, তারা আসলে দেশভাগের মানসিকতাকে উসকে দিচ্ছে। তার মতে, এই ধরনের মনোভাবই একসময় মুহম্মদ আলি জিন্নাহর মতো ব্যক্তিত্বের উত্থানের কারণ হয়েছিল।
জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ‘বন্দে মাতরম্’ গানের ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের সময়। ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গানটির পূর্ণ সংস্করণে হিন্দু দেবীর উল্লেখ থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ১৯৩৭ সালে মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে কংগ্রেস শুধু প্রথম দুটি স্তবক গ্রহণ করে যাতে মুসলিম সম্প্রদায় আঘাত না পায়। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব, বিশেষত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, এই সিদ্ধান্তকে গানের অবমাননা বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে মোদী পুরো গানটি আবৃত্তি করেন। সেখানেই তিনি ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট, মুদ্রা এবং একটি বিশেষ পোর্টাল উদ্বোধন করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও জানিয়েছেন, সারা দেশে পূর্ণ সংস্করণ গেয়ে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদকে আরও জোরদার করা হবে। ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের মতো রাজ্যেও একই রকম নির্দেশ জারি হয়েছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তকে বিজেপির ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি বলে সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় আরএসএস কখনও এই গান গায়নি। জয়ারাম রমেশও ইতিহাসের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, গানটি নিয়ে গান্ধী, নেহরু ও রবীন্দ্রনাথের অবস্থান ছিল ভিন্ন। এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরে সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে পুরো গান গাওয়ার নির্দেশে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঐতিহাসিক অন্যায় সংশোধনের নামে তাদের মতাদর্শিক অবস্থানকে আরও শক্ত করতে চাইছে এবং বিরোধীদের মতে, এতে ধর্মীয় সহনশীলতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


