উত্তরাখণ্ডের অঙ্কিতা ভাণ্ডারী হত্যা মামলাকে ঘিরে অভিনেত্রী উর্মিলা সানাওয়ারের ধারাবাহিক ভিডিও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং রাজ্য ইউনিটের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিন প্রকাশিত এই ভিডিওগুলির জেরে দিল্লিতেও রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি দলীয় মহলের।
উর্মিলা সানাওয়ার তাঁর ভিডিওগুলিতে অঙ্কিতা ভাণ্ডারী হত্যাকাণ্ডে একাধিক ‘অপ্রকাশিত স্তর’ থাকার দাবি করেছেন এবং ‘ভিআইপি যোগ’-এর ইঙ্গিত দিয়ে শাসক দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি কিছু ছবি ও কথোপকথনের রেকর্ড দেখানোর দাবি করায় রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এক রাজ্য স্তরের নেতা জানিয়েছেন, এই অভিযোগগুলি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি প্রচারিত হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রথমে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগের দায় বিরোধী কংগ্রেসের ওপর চাপানোর চেষ্টা করলেও পরে দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও জাতীয় সাধারণ সম্পাদক দুষ্যন্ত কুমার গৌতম প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেন এবং অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি এও জানান, ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে দলীয় কর্মীদের এই সংবেদনশীল বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
২০২২ সালে পৌড়ি গড়ওয়াল জেলার যমকেশ্বর ব্লকের ভানতারা রিসোর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত ১৯ বছরের অঙ্কিতা ভাণ্ডারী নিখোঁজ হন। প্রায় এক সপ্তাহ পর চিলা শক্তি ক্যানাল থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয় এবং তদন্তে উঠে আসে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। রিসোর্ট মালিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ সামনে আসায় সেই সময় থেকেই মামলাটি ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয় এবং রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়।
সাম্প্রতিক ভাইরাল ভিডিওগুলির পর কংগ্রেস ও উত্তরাখণ্ড ক্রান্তি দল আবারও সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা বিজেপি ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যুতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রতিটি অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।


