মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চুক্তির কথা প্রকাশ্যে এলেও এর শর্ত, লাভ-ক্ষতি বা বাস্তব কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহল থেকে অর্থনীতিবিদ, সবার মধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার একাধিক বিশ্লেষক ও বিরোধী নেতা এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে আনার দাবি তোলেন। তাদের বক্তব্য, এত বড় আন্তর্জাতিক সমঝোতা হলে তা সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু সরকারের তরফে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানালেও বিদেশ মন্ত্রক বা বাণিজ্য মন্ত্রক থেকে কোনও পরিষ্কার বিবৃতি মেলেনি।
বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূশ গোয়েল বলেন, সংসদের কাজকর্ম ঠিকমতো না চলায় আলোচনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চুক্তির বিষয়বস্তু জানতে চাইলে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে দুই দেশের নেতাদের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। এতে অনেকের সন্দেহ আরও বেড়েছে। এখন পর্যন্ত জানা যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে শুল্ক কমানোর বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ২৫ শতাংশের পরিবর্তে ১৮ শতাংশ শুল্ক ধার্য হতে পারে। কিন্তু এটিই কি পুরো চুক্তি, নাকি ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে প্রথম ধাপ, তা স্পষ্ট নয়।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত রাশিয়ার পরিবর্তে আমেরিকা বা অন্য উৎস থেকে জ্বালানি কিনতে রাজি হয়েছে এবং বিপুল অঙ্কের মার্কিন পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই তথ্য নয়াদিল্লি এখনও নিশ্চিত করেনি। ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন কৃষিপণ্য ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে ভারতীয় বাজারে বেশি সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশীয় কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী ও ওষুধ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও পোশাক ও গয়না শিল্প কিছুটা সুবিধা পেতে পারে, তবুও সামগ্রিক প্রভাব কী হবে তা অজানা। সব মিলিয়ে, এত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে সরকারের নীরবতা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলছে। স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ না হলে এই অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।


