উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া জেলায় SIR এর কাজে যুক্ত এক BLO-এর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় তার কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।অভিযোগকারী অশ্বিনী কুমার পেশায় একজন শিক্ষক এবং এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রের বুথ লেভেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জানা গেছে, বিকেলের দিকে তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত নোটিস বিলি করে মোটরবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় একটি গাড়ি তার পথ আটকে দাঁড়ায়। গাড়িতে থাকা ব্যক্তি তাকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
অশ্বিনী কুমার জানান, তিনি নির্বাচন কমিশনের নিয়মের কথা জানিয়ে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে গালিগালাজ করে এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন ওই হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা ব্যাগ থেকে ভোটার তালিকা ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। এমনকি সাহায্যের জন্য ফোন করতে গেলে তার মোবাইল ফোনও ভেঙে ফেলা হয়। যাওয়ার আগে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
আহত অবস্থায় তিনি চৌবিয়া থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই ঘটনা নতুন নয় বলে মনে করছেন অনেকে। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলোর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কিছু প্রভাবশালী বিজেপি কর্মী সমর্থকরা মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে জেলা বিজেপির এক মুখপাত্র বলেছেন, দল এই ধরনের বেআইনি কাজ সমর্থন করে না। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থান নেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।


