উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বার শহরের এক সাধারণ জিমের মালিক দীপক কুমার হঠাৎ করেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ধর্মের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে তিনি যেমন প্রশংসা পাচ্ছেন, তেমনই পাচ্ছেন হুমকি ও চাপ।
৪৬ বছর বয়সী দীপক একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমি হিন্দু নই, মুসলিম নই, শিখ বা খ্রিস্টানও নই। সবার আগে আমি মানুষ।” তার এই কথাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। ঘটনার সূত্রপাত প্রজাতন্ত্র দিবস, ২৬ জানুয়ারি। সেদিন তিনি এক বন্ধুর দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ দেখেন, গেরুয়া পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি ৭০ বছরের মুসলিম ব্যবসায়ী ওয়াকিল আহমেদের দোকান ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।
‘বাবা স্কুল ড্রেস’ নামক এক দোকানের নাম পাল্টাতে চাপ দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ‘বাবা’ শব্দটি নাকি শুধু হিন্দু ধর্মীয় ব্যক্তিরাই ব্যবহার করতে পারেন। বিষয়টি দেখে দীপক প্রতিবাদ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বহু বছর ধরে চলা একটি দোকানের নাম কেন বদলাতে হবে। যখন তার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি বলেন, “আমার নাম মোহাম্মদ দীপক।” এই মন্তব্য আরও আলোড়ন তোলে।
এরপর থেকেই দীপকের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটূক্তি ও হুমকি শুরু হয়। শনিবার তার বাড়ির সামনে ও জিমের বাইরে একদল উগ্রপন্থী জড়ো হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ওয়াকিল আহমেদ জানান, তিন দশক ধরে তিনি ওই দোকান চালাচ্ছেন। এর আগেও কয়েকবার নাম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। এবার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। পাশাপাশি, আরও ৩০-৪০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলেও সাড়া ফেলেছে। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী দীপকের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে ‘মানবতার প্রতীক’ বলে অভিহিত করেছেন।
সব মিলিয়ে কোটদ্বারের এই ঘটনা আবারও দেখাল, সাধারণ মানুষও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস করে দাঁড়াতে পারেন। দীপকের বার্তা স্পষ্ট, ঘৃণা নয়, ভালোবাসাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।


