উত্তরাখণ্ডের উদম সিং নগর জেলার কাশীপুরে এক কাশ্মীরি শাল বিক্রেতার উপর নির্মম হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ ছড়াল। গত ২২ ডিসেম্বর কুপওয়ারার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সি বিলাল আহমদ গনিকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে বজরং দলের স্থানীয় নেতা অঙ্কুর সিং এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিলাল গত আট বছরের বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় ঘরে ঘরে শাল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি ও সম্পর্কও ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু সেদিন কাজের মধ্যেই তাঁকে আটক করে একটি দল। অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়, তারপর ঘুষি ও লাথি মেরে মারধর করা হয়। প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ—হামলাকারীরা জোর করে তাঁকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। প্রথমে অস্বীকার করায় তাঁর উপর আরও নির্যাতন চালানো হয়। পাশাপাশি তাঁর শালের মালপত্র লুট করা হয় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেওয়া হয়।
এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রথমে অভিযুক্ত অঙ্কুর সিং নিজেই সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। পরে সেটি মুছে ফেলা হলেও ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি নিয়ে কাশ্মীরি ব্যবসায়ী ও ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (JKSA) এই হামলাকে কাশ্মীরিদের ভয় দেখানোর পরিকল্পিত চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। তাদের বক্তব্য, কাশ্মীরিরাও দেশের সমান নাগরিক এবং সংবিধান অনুযায়ী সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে।
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়—কাশ্মীরি শাল বিক্রেতা বা সাধারণ নাগরিকদের উপর এ ধরনের হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এর পরেই উত্তরাখণ্ড পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনা আবারও সামনে আনল, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাইরে কাজ করতে যাওয়া কাশ্মীরি মুসলিম ব্যবসায়ীদের কতটা নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি সামাজিক সহাবস্থান রক্ষায় প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে।


