পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উমিদ সেন্ট্রাল পোর্টালে যাচাইয়ের সময় বিপুল সংখ্যক সম্পত্তি হয় বাতিল হয়েছে, নয়তো এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি ঘিরে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক জানায়, রাজ্যে মোট ৮৫,১১০টি ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য পোর্টালে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৮,৪৯৭টি সম্পত্তি বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অন্যদিকে ৩,৫০৯টি সম্পত্তি সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক সম্পত্তির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে অনেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সমালোচকদের দাবি, এত বড় একটি প্রক্রিয়া শুরু করার আগে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও সময় দেওয়া উচিত ছিল। কারণ, শুরুতেই ছয় মাসের মধ্যে সব তথ্য আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়নি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, ২০২৫ সালের ৬ জুন এই পোর্টাল চালু করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পূর্বে নথিভুক্ত সব ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপলোড করা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল সময় বাড়ানোর সুযোগ রেখেছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রথম ছয় মাসে মাত্র ২৩,০৯১টি সম্পত্তির তথ্য আপলোডের কাজ শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক সম্পত্তি অনুমোদন পায়—মাত্র ৭১৬টি। একই সময়ে ১৬১টি খারিজ হয়। বাকি বহু আবেদন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধাপে আটকে ছিল, যা প্রশাসনিক জটিলতার ইঙ্গিত দেয়।
পরবর্তীতে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড সময় বৃদ্ধির আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। ফলে এখন ২০২৬ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত পোর্টাল খোলা রাখা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরু থেকেই যদি আরও বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ করা হতো, তাহলে কি এত সমস্যা তৈরি হত না।
সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, কেন্দ্রের তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। এরপরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে কতগুলি সম্পত্তি বৈধ, কতগুলি বাতিল এবং কতগুলি আইনি জটিলতায় জড়িয়ে রয়েছে। পাশাপাশি দখল ও আর্থিক মূল্য সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে।


