
পহেলগাঁওর রক্তাক্ত ঘটনায় ভারত যেভাবে সাড়া দিল, তা শুধু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা নয়—একটি কৌশলগত জলের যুদ্ধের সূচনা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের সঙ্গে সঙ্গেই যেন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন উত্তেজনার রেখা আঁকা শুরু হল।
পাকিস্তান তা ভাল করেই জানে, সিন্ধু ও তার শাখা নদীগুলির জল রুদ্ধ হলে, তাদের প্রাণসঞ্চারী পঞ্জাব প্রদেশ কার্যত মরুভূমিতে পরিণত হবে। আর তাই ভারত যখন ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু চুক্তি কার্যত সরিয়ে রাখার পথে এগোয়, ইসলামাবাদের নড়েচড়ে বসাই স্বাভাবিক। যুদ্ধং দেহি হুঙ্কারে জোর বাড়াতে শুরু করে পাকিস্তান।

পাকিস্তানকে চেপে ধরতে ভারতের এই জল কূটনীতি নতুন নয়, তবে এতটা প্রকাশ্য ও দৃষ্টিগোচর পদক্ষেপ গত কয়েক দশকে দেখা যায়নি। সিন্ধু নদীর জল ব্যবস্থাপনা শুধু একটিমাত্র নদী নিয়ে নয়, এটি একটি সভ্যতার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যে নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল হরপ্পা-মহেঞ্জোদাড়ো, সেই নদী আজ যুদ্ধের সম্ভাব্য উপাদান!
যদিও চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, বাস্তবে তা হয়েছে ভূ-রাজনীতির প্যাঁচে জর্জরিত। পূর্ব দিকের নদীগুলির ওপর ভারতের পূর্ণ অধিকার থাকলেও পশ্চিম দিকের তিনটি নদীর ৭০ শতাংশ জল ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু এই ভারসাম্য আজ ভারী হয়ে উঠছে সন্ত্রাসবাদের ছায়া ও যুদ্ধবাজ হুমকির মাঝে।
ভারতের সেনাবাহিনী এখন শুধু সীমান্তে নয়, পরিকল্পনায় রাইফেল ও জল দুই-ই সাজাচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে এটি এক শক্তিশালী বার্তা—”তুমি যদি রক্ত আনো, আমরা জল ফিরিয়ে নেবো।” আর সেই জলের অমোঘ প্রবাহ থামলেই হয়ত থমকে যাবে পাকিস্তানের অর্থনীতি, কৃষি, এমনকি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের ভূমিকা, সালিশি আদালতের জটিলতা এবং বহু পুরনো ওই চুক্তির আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এ কি শুধুই কূটনৈতিক চাল, নাকি এই জল-রাজনীতি এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করছে?
যে জল ছিল প্রাণদায়ী, সেটিই কি রক্তগঙ্গার রূপ নিচ্ছে?


