পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১০০-রও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এমনই দাবি করেছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি (পিপিএস)। রবিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, রমজান শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও শরণার্থী শিবিরে প্রায় প্রতি রাতেই তল্লাশি ও অভিযান চালানো হচ্ছে।
পিপিএসের অভিযোগ, আটক হওয়াদের মধ্যে নারী, শিশু এবং আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন। একই সময়ে একাধিক এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সংস্থার দাবি, এইসব অভিযানের সময় মারধর, ভাঙচুর এবং সম্পত্তি নষ্ট করার মতো ঘটনা ঘটেছে। বহু বাড়িতে তল্লাশির নামে আসবাবপত্র ভাঙা হয়েছে, গাড়ি, টাকা ও সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
রবিবার ভোরে কালকিলিয়া শহর ও কাছের আজ্জুন এলাকায় অভিযানে তিন শিশুসহ আটজনকে আটক করা হয়। রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সামরিক চৌকিতে নজরদারি আরও কড়া হয়েছে। পশ্চিম তীর জুড়ে এক হাজারের বেশি স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্টে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
এদিকে, আল-আকসা মসজিদ চত্বরে বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পূর্ব আল-কুদসের গভর্নরেট জানিয়েছে, আল-ইজারিয়ার কাছে বির আল-মাসকুব বেদুইন এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। নাবলুসের পূর্বে বেইত ফুরিক ও রামাল্লার কাছে আবু ফালাহ গ্রামেও বাড়িঘর ও কৃষি স্থাপনায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এক ইসরায়েলি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের এরিয়া সি-তে বেদুইন বসতি উচ্ছেদের ঘটনাও বেড়েছে। চাপের মুখে রামাল্লার পূর্বে আল-মুঘাইয়ির গ্রামের খালায়েল এলাকায় ১১টি বেদুইন পরিবার নিজেদের তাবু গুটিয়ে এলাকা ছেড়েছে।
বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে ৯,৩০০-র বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৫০ শিশু ও ৬৬ জন নারী। মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক মাসে পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও অভিযানের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলের দাবি।


