রাজ্যে সরকার বদলের পর এবার বদল আসতে চলেছে শহর ও রাস্তার রঙের চেহারাতেও। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি ভবন, উড়ালপুল, রেলিং, ফুটপাত ও রাস্তার ধারে নীল-সাদা রঙের ব্যবহার চোখে পড়ত। আগের সরকারের আমলে এই রং কার্যত রাজ্যের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছিল। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই নীল-সাদা রঙের ব্যবহার ধীরে ধীরে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, এবার থেকে রাস্তা, সেতু, ফুটপাত বা রেলিং রাঙাতে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে নির্দিষ্ট রং ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে যান চলাচল ও পথ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন করে হলুদ-কালো এবং সাদা রঙের ব্যবহার বাড়বে বলেই প্রশাসনের একাংশের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাস্তা ও উড়ালপুলে নির্দিষ্ট রঙের ব্যবহার শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, তা চালক ও পথচারীদের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। ভারত সরকারের অধীন ‘ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেস’ রাস্তার চিহ্ন ও রঙের বিষয়ে আলাদা নিয়ম তৈরি করেছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্দিষ্ট ধরনের রং ব্যবহার করা হয়, যাতে দূর থেকেও চালকরা সহজে রাস্তার দিক ও সীমারেখা বুঝতে পারেন।
অভিযোগ উঠেছে, আগের সরকার সেই নিয়ম পুরোপুরি মেনে চলেনি। বরং প্রায় সব সরকারি কাঠামোতেই একসঙ্গে নীল-সাদা রং ব্যবহার করা হয়েছিল। নতুন প্রশাসনের দাবি, এবার সেই অবস্থার পরিবর্তন হবে এবং কেন্দ্রীয় গাইডলাইন মেনেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রং করা হবে।
উল্লেখ্য, নীল-সাদা রঙের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরিবেশকর্মী মোহিত রায়। গত বছরের শেষে দায়ের হওয়া সেই মামলায় আদালতও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যদিও সেই সময় রঙের ব্যবহার বন্ধ হয়নি। তবে এবার নতুন সরকার আদালতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে বলে খবর।
পরিবেশকর্মী মোহিত রায়ের বক্তব্য, রাজ্যের প্রায় সব জায়গায় একই রঙের ব্যবহার সাধারণ মানুষের কাছেও অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। তাঁর দাবি, বাইরের রাজ্য বা বিদেশ থেকে আসা মানুষও এই বিষয়টি দেখে বিস্মিত হতেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি আধিকারিকরা এতদিন কীভাবে এই নিয়ম বহির্ভূত কাজ চলতে দিলেন।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু রাস্তা বা উড়ালপুল নয়, রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নের বাইরের রঙেও পরিবর্তন আনা হতে পারে। কারণ, ওই এলাকার পাশ দিয়েও দ্রুতগতির যান চলাচল করে। ফলে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে নির্দিষ্ট মান বজায় রেখেই ভবিষ্যতে রং করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে।


