২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ায় রাজ্যজুড়ে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকালে সাড়ে দশটার সময় ফল ঘোষণা করে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এরপর সকাল ১১টা থেকে পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে নিজেদের ফল দেখতে পারছেন।এই বছর মোট পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.২৩ শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় যথেষ্ট সন্তোষজনক বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, মেয়েরা এ বছর ছেলেদের থেকে এগিয়ে রয়েছে। মেয়েদের পাশের হার ৯২.৪৭ শতাংশ, যা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়েদের এই সাফল্য সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।জেলার নিরিখে বিচার করলে পূর্ব মেদিনীপুর সবার উপরে রয়েছে। এই জেলা থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী সফল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হাওড়া। এই দুই জেলার ফলাফল সামগ্রিকভাবে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে।মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে আদৃত পাল। সে ৫০০-র মধ্যে ৪৯৬ নম্বর পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। আদৃত নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে জিষ্ণু কুণ্ডু, তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৫। জিষ্ণুও পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। তাদের এই সাফল্যে পরিবার ও শিক্ষকদের মধ্যে গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।পরীক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল দেখতে পারছে। এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর। ডিজিটাল মার্কশিটে প্রত্যেকটি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর, মোট নম্বর, বিভাগ এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে কি না—সব তথ্য স্পষ্টভাবে দেওয়া রয়েছে।সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, অনলাইনে পাওয়া নম্বরপত্র ডাউনলোড করার পর সেটি ভালো করে মিলিয়ে দেখা জরুরি। কোনও ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে এবারের উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে। পাশের হার ভালো, মেধাতালিকায় ভালো নম্বর এবং মেয়েদের এগিয়ে থাকা সব কিছু মিলিয়ে এই ফলাফল শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Popular Categories


