দিল্লিতে আবারও এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর রানিবাগ এলাকায়। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই একটি প্রাইভেট বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠছে শহরের নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাতে ওই তরুণী কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি সরস্বতী বিহার বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি প্রাইভেট বাসে ওঠেন। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। নির্যাতিতার অভিযোগ, বাসে ওঠার পর চালক ও কন্ডাক্টর তাঁকে জোর করে আটকে রাখে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর উপর শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়।ভোরের দিকে অভিযুক্তরা তাঁকে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরে ওই তরুণী কোনওভাবে সাহায্য পেয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। দ্রুত অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটিও আটক করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত খুব গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে। বাসে সেই সময় অন্য কেউ ছিল কি না, বাসটি কোন পথে চলছিল, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে কী ধরা পড়েছে—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।বর্তমানে তদন্ত প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষা, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা বিবাহিতা এবং তাঁর তিনটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে।এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আবারও ২০১২ সালের দিল্লির বহুল আলোচিত নির্ভয়া ঘটনার কথা মনে পড়ছে অনেকের। সেই ঘটনাও ঘটেছিল চলন্ত বাসের ভিতরেই, যা সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এত বছর পরেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধু আইন নয়, বাস্তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
Popular Categories


