২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর সংগঠন নিয়ে বেসামাল তৃণমূল কংগ্রেস। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তরফ থেকে বিরোধী দলনেতাও ঘোষণা করা হয়েছে। সেই পদে বসছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এখানেই প্রশ্ন উঠছে প্রায় ৫০ শতাংশ জয়ী তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে কি কেউ যোগ্য নন এই পদের জন্য? সংখ্যালঘুদের কি ফের বঞ্চিত করছেন মমতা ব্যানার্জী?
২৯৩টি আসনের (ফলতা কেন্দ্রে নির্বাচন বাকি আছে) মধ্যে ৪৬ জন মুসলিম প্রার্থী ছিল তৃণমূলের। যার মধ্যে জয়ী হয়েছেন ৩৪ জন। অর্থাৎ শতাংশের হিসেবে প্রায় ৭৪ শতাংশ। এছাড়া ৮০ জন জয়ী তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মুসলিম সম্প্রদায়ের। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইতে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ফিরহাদ হাকিমকেও বেছে নেওয়া যেত বলে অনেকের মত। তবে তাঁকে চিফ হুইপ করা হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম সমাজের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে এত জয়ী মুসলিম বিধায়কের মধ্যে থেকে কেন একজনকেও বিরোধী দলনেতা করা হল না? মমতা ব্যানার্জী নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সর্বদা মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়ার বার্তা দেন। তিনি বলেন, মুসলিমদের জন্য অনেক কিছু করে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বঞ্চনার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
রাজনীতিবিদরা মনে করছেন বিজেপির ‘হিন্দুত্বে’র রাজনীতি ঠেকানোর জন্য বিধানসভার ভিতরে একজন মুসলিম মুখ প্রয়োজন ছিল। যিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কথা তুলে ধরবেন। তাঁদের যন্ত্রণা, চাহিদা সবকিছুর কথা তুলে ধরবেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সংখ্যালঘুদের যন্ত্রণার কথা, অত্যাচারের কথা বিধানসভায় কতটা তুলে ধরতে পারেন, কতটা সংখ্যালঘুদের জন্য লড়তে পারেন এখন সেটাই দেখার।


