পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেল ইরানের নতুন সামরিক সতর্কবার্তায়। IRGC অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়েদ মাজিদ মুসাভি দাবি করেছেন, ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অ্যারোস্পেস ড্রোন ইতিমধ্যেই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন লক্ষ্যবস্তু ও শত্রু জাহাজগুলোর ওপর নিশানা স্থির করে রেখেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বক্তব্যে মুসাভি বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্র এবং অ্যারোস্পেস ড্রোনগুলো শত্রুর ওপর নিশানা স্থির করে রেখেছে এবং আমরা কেবল গুলি চালানোর আদেশের অপেক্ষায় আছি।”
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই মন্তব্য সামনে আসে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি এবং উস্কানিমূলক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটেই তাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
জাস্ক উপকূলের কাছে ইরানি জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কথিত হামলার অভিযোগের পর IRGC নৌবাহিনী একটি পাল্টা অভিযান চালায় বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চ-বিস্ফোরক ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। ইরানের দাবি, এতে শত্রুপক্ষের সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং মার্কিন জাহাজগুলো পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
IRGC নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইরান নির্ধারিত নিরাপদ করিডোর ব্যবহার করতে হবে। নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুতি বা বৈরী কার্যকলাপ দেখা গেলে তাৎক্ষণিক কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যকলাপ আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। ইরান জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে IRGC বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং দেশের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


