পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় বড়সড় নিয়োগের সুখবর নিয়ে এল নতুন সরকার। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ মিলিয়ে রাজ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। রাজ্যের নতুন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই খবর জানিয়ে বলেছেন যে, গ্রামে উন্নয়নের কাজ দ্রুত শেষ করতে এই নতুন কর্মী নেওয়া খুব দরকার। বর্তমানে কর্মীর অভাবে এক একজনকে অনেক বেশি কাজ করতে হচ্ছে, যা মেটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত সচিব, গ্রাম সহায়ক, নির্মাণ সহায়ক এবং ক্লার্ক সহ বিভিন্ন পদে এই চাকরি দেওয়া হবে। আগের সরকারের আমলে নিয়োগের জন্য যে অনলাইন পোর্টাল তৈরি করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই পদ্ধতি ব্যবহার করবে নাকি নতুন কোনো নিয়ম আনবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রকম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং স্বচ্ছ ভাবেই যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হবে।
চাকরির খবরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খাবারের সুরাহা করতেও এগিয়ে এসেছে সরকার। রাজ্যে চালু থাকা মা ক্যান্টিন নিয়ে অনেকের মনে সংশয় ছিল। কিন্তু পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এই ক্যান্টিনগুলো বন্ধ হবে না। উল্টে মানুষের সুবিধার্থে এখন থেকে মা ক্যান্টিনে মাত্র পাঁচ টাকায় ডিম-ভাতের বদলে মাছ-ভাত দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুশির হাওয়া দেখা দিয়েছে।
তবে সরকারের এই ঘোষণা নিয়ে পাল্টা সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যে কর্মসংস্থানের হাল ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে এখন কেবল নির্বাচনের মুখে ফাঁপা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বিরোধীদের মতে, ডবল ইঞ্জিন সরকারের গালভরা বুলি দিলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের অভাব-অনটন দূর করার কোনো সদিচ্ছা এদের নেই। মা ক্যান্টিনে মাছ-ভাত দেওয়ার কথা আসলে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। আসল উন্নয়ন বা দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের বদলে এই সরকার কেবল সস্তা প্রচারের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।


