পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার পদে রথীন্দ্র বসুর মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কোচবিহার দক্ষিণের এই বিজেপি বিধায়ক পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টট্যান্ট হলেও রাজনৈতিক মহলে তিনি আরএসএস ঘনিষ্ঠ হিসেবেই বেশি পরিচিত। শুক্রবার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হতে চলেছেন। তবে নিরপেক্ষ সাংবিধানিক পদে একজন কট্টর আরএসএস অনুগামীকে বসানো নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রথীন্দ্র বসুর প্রশংসা করলেও তাঁর বক্তব্যে ছিল প্রতিহিংসার সুর। প্রাক্তন স্পিকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে মনে করছেন রাজনীতিকদের একাংশ। বিরোধীদের দাবি, গত সরকারের সময় বিজেপি যে সব অভিযোগ তুলত, এখন ক্ষমতায় এসে তারা ঠিক সেই পথেই হাঁটছে। স্পিকারের মতো একটি নিরপেক্ষ আসনে নিজেদের ঘনিষ্ঠ লোককে বসিয়ে বিজেপি বিধানসভাকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করতে চাইছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিধানসভার অন্দরে শপথ গ্রহণ পর্বেও এদিন সৌজন্যের অভাব স্পষ্ট ছিল। তৃণমূল বিধায়করা যখন শপথ নিতে আসছিলেন, তখন বিজেপি বিধায়কদের চিৎকার ও ধর্মীয় স্লোগানে কক্ষের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোনো কোনো মহলের মতে, সংখাগরিষ্ঠতার দম্ভে বিজেপি সদস্যরা বিধানসভার গরিমা ক্ষুণ্ণ করছেন। এমনকি প্রাক্তন মহিলা মন্ত্রীদের নিয়ে বিধানসভা কর্মীদের একাংশের মন্তব্য উসকে দিয়ে এক ধরণের মানসিক হেনস্থার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
অন্যদিকে, হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ বিজলির সাইকেলে চড়ে বিধানসভায় আসাকে নিছকই ‘সস্তা প্রচার’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা। পেট্রোল-ডিজেলের লাগামহীন দাম নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন দায় এড়াতে এই ধরণের নাটক করা হচ্ছে বলে তাদের মত। সব মিলিয়ে নতুন স্পিকারের নিয়োগ এবং বিধানসভার সামগ্রিক আচরণে রাজ্যে একতরফা ও একরোখা রাজনীতির কালো মেঘ দেখছেন সমালোচকরা।


