গত কয়েক বছরে কলকাতা ও আশেপাশের এলাকায় গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ করে বেসরকারি বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা বাড়ছে। আগে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস রাস্তায় চলত, এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়ে কয়েক হাজারে সীমাবদ্ধ হয়েছে। ফলে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
শুধু বেসরকারি নয়, সরকারি বাস পরিষেবার অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। অনেক রুটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস পাওয়া যায় না। এতে করে মানুষকে বিকল্প উপায় খুঁজতে হচ্ছে। অনেকেই এখন টোটো, অটো বা মেট্রোর ওপর নির্ভর করছেন, যার ফলে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পরিবহণ শ্রমিকরা। আগে যেখানে একাধিক বাসে কাজ করার সুযোগ ছিল, এখন বাস কমে যাওয়ায় অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। অনেক চালক ও কন্ডাক্টর পেশা বদলে অন্য কাজে যোগ দিয়েছেন, যেমন নির্মাণ শ্রমিক বা ছোটখাটো ব্যবসা। ফলে এই খাতে কর্মসংস্থানও কমে যাচ্ছে।
পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাম ও শহরের সাধারণ মানুষের জন্য সস্তায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল এই বাস পরিষেবা। সেটি দুর্বল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে। উত্তরবঙ্গের মতো এলাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন, কারণ সেখানে ট্রেন বা মেট্রোর সুবিধা সব জায়গায় নেই।অনেক পুরনো বাস রুট বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু জায়গায় আগে যেখানে অনেক বাস চলত, এখন সেখানে অল্প সংখ্যক বাস দেখা যায়। এতে যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও কর্মীর সংখ্যা কমে গেছে। আগে যেখানে হাজার হাজার কর্মী কাজ করতেন, এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই কম। ট্রাম ও সরকারি বাসের সংখ্যাও কমে যাওয়ায় শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গণপরিবহণের এই সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


