রাজ্যের উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা এবং অনিশ্চয়তার অবশেষে অবসান হতে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে স্কুলশিক্ষা দফতর এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন যৌথভাবে ১,১৭৭টি শূন্যপদের একটি চূড়ান্ত তালিকা হলফনামা আকারে জমা দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে এই পদগুলিতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপেক্ষমাণ চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের কাজ শুরু করা হবে বলে দফতরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে মোট অপেক্ষমাণ প্রার্থীর সংখ্যা ১,২৪১ জন। স্কুলশিক্ষা দফতর আদালতে জানিয়েছে যে, তালিকায় থাকা ১,১৭৭ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া মিটে যাওয়ার পর বাকি ৬৪ জন প্রার্থীর জন্য নতুন শূন্যপদ তৈরি হলেই তাঁদেরকেও দ্রুত চাকরিতে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬ সালে এই উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলেও একের পর এক মামলা এবং আইনি জটিলতার কারণে তা বারবার থমকে যায়। এমনকি অনিয়মের অভিযোগে আদালতের নির্দেশে আগের প্রকাশিত মেধা তালিকাও বাতিল করতে হয়েছিল। এরপর সম্পূর্ণ হাই কোর্টের কড়া নজরদারি ও তত্ত্বাবধানে নতুন করে মেধা তালিকা তৈরি করা হয় এবং ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে নিয়োগের কাউন্সেলিং শুরু হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত আট দফায় কাউন্সেলিং চলার পরেও উপযুক্ত বা যথাযথ শূন্যপদের অভাবে ১,২৪১ জন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত রয়ে যান। নির্দিষ্ট সময়ে চাকরি না পাওয়ায় প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হন এবং শিক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাও দায়ের করা হয়।
মামলার শুনানিতে প্রয়োজনীয় শূন্যপদ জোগাড় করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছিল স্কুলশিক্ষা দফতর। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত একপর্যায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, প্রয়োজনে নিয়মের কিছু পরিবর্তন করে হলেও জরুরিকালীন ভিত্তিতে এই বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত চাকরি দিতে হবে। আদালতের সেই কড়া অবস্থানের পর বেশ কিছুদিন সময় নিয়ে অবশেষে রাজ্যজুড়ে ১,১৭৭টি শূন্যপদ খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে দফতর। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় বসে আন্দোলন করা এবং আইনি লড়াই চালানো যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা দফতরের এই হলফনামা পেশের পর অবশেষে নিজেদের অধিকার ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


