পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হতেই দেশের সাধারণ মানুষের সংসারে ফের মূল্যবৃদ্ধির আগুন লাগাতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। ভোট মিটে যাওয়ার পরপরই দু’দফায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। জ্বালানির এই লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একধাক্কায় বেড়ে গেছে টায়ার, ইঞ্জিন অয়েল ও টোল ট্যাক্সের মতো পরিবহণ সংক্রান্ত একাধিক জরুরি উপকরণের খরচ। এর ফলে লরি, ট্রাক ও ম্যাটাডোরের মতো বাণিজ্যিক যানবাহনের যাতায়াত খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের একাধিক বড় পরিবহণ সংগঠন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান বাজারে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পণ্য পরিবহণের মাশুল বাড়ানো ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। ইতিমধ্যেই সর্বভারতীয় পরিবহণ সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে পণ্য পরিবহণ মাশুল ৪ শতাংশ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার এবং দেশের বিভিন্ন বণিকসভাকে চিঠি লিখে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সাফ বলা হয়েছে যে, এই মাশুল বৃদ্ধি করতে না দিলে দেশজুড়ে পণ্য পরিবহণ স্তব্ধ করে দেওয়া হবে।
অল ইন্ডিয়া ট্রান্সপোর্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত ২০ মে থেকেই এই নতুন বর্ধিত মাশুল কার্যকর করা শুরু হয়ে গেছে। অর্থাৎ ২০ মে থেকে যেসব পণ্য গাড়িতে লোড করা হয়েছে, সেগুলি গন্তব্যে পৌঁছাবে বাড়তি টাকা যোগ করেই। তবে পরিবহণ ক্ষেত্রে খরচের বোঝা এখানেই শেষ হচ্ছে না। সংগঠনগুলি জানিয়েছে যে, আগামী দিনে জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহণ মাশুলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যাবে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে কেন্দ্র সরকার দফায় দফায় যতবার পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়াবে, ততবারই তার সঙ্গে যুক্ত হবে ফুয়েল অ্যাডজাস্টমেন্ট ফ্যাক্টর। হিসাব অনুযায়ী, আগামী দিনে পেট্রল বা ডিজেলের দাম প্রতি ১ টাকা বাড়লে পরিবহণ মাশুল ৬৫ পয়সা করে বৃদ্ধি পাবে। ফলে এই ৪ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধি যে স্থায়ী নয়, তা স্পষ্ট। আপাতত এই মাশুল বৃদ্ধিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ডিজেল ছাড়া অন্য উপকরণের খরচ বৃদ্ধির জন্য মাশুল বাড়ছে ৩ শতাংশ এবং সরাসরি ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মাশুল চাপানো হচ্ছে ৪ শতাংশ।
এই চরম সংকটের বাজারে পরিবহণ সংগঠনগুলি কেন্দ্রীয় সরকার ও শিল্প মহলকে দেওয়া চিঠিতে আরও একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, রাস্তায় পণ্য পৌঁছাতে দেরি হলে পরিবহণ সংস্থাগুলির ওপর কোনো রকম জরিমানা ধার্য করা যাবে না। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে যে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সড়কপথের বহু পেট্রল পাম্পে পর্যাপ্ত ডিজেল মিলছে না। লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের, যার ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। পথে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে কর্মীদের দৈনিক খরচও একলাফে অনেক বেড়ে গেছে এবং এই পুরো আর্থিক ক্ষতি বইতে হচ্ছে মালিকদের। পরিবহণ সংগঠনগুলির স্পষ্ট বক্তব্য, এই কঠিন পরিস্থিতিতে সরকার যদি অবিলম্বে হস্তক্ষেপ না করে এবং তাদের দাবিদাওয়া মেনে না নেওয়া হয়, তবে আগামী দিনে স্থানীয় ও পাইকারি বাজারগুলিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চরম সংকট দেখা দেবে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।


