চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ভোটারদের দেওয়া নথিগুলি যাচাই করতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, এই যাচাই প্রক্রিয়ায় এমন তথ্য সামনে এসেছে যা অনেক ভোটারের মনে সংশয় তৈরি করছে। বর্তমানে জানা গেছে, চূড়ান্ত তালিকা থেকে প্রায় ৬৪ লাখ ৬১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। এর মধ্যে খসড়া তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই ৫৮ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছিল। এছাড়া, শুনানিতে প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ভোটার হাজির হননি। এবারও প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার নথি বাতিল হয়েছে। এখনো ৫০ লাখের বেশি নথি যাচাই বাকি রয়েছে। এই নথির মধ্যে অনেকই কমিশনের অনুমোদিত নথি তালিকায় নেই। তাই এই ধরনের নথি জমা দেওয়া ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কিছু জেলায় সব থেকে বেশি নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কোচবিহারে এমন পরিস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এই জেলাগুলিতে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মুসলিম ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার শেষ হয়েছে সমস্ত শুনানি প্রক্রিয়া। এখন যাচাই-বাছাই চলবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কমিশনের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এই পাঁচ জেলায় নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ‘অপ্রাসঙ্গিক’ নথি পাওয়া গেছে। পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানেও একই ধরনের সমস্যা দেখা গেছে, যদিও পরিমাণ কম। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অপ্রাসঙ্গিক নথি সাধারণত তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অনেকের নাম উঠবে না, যা আগামী ভোট প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


