রাজ্যে ওয়াক্ফ সম্পত্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ খারিজ করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও যেমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এখনও তেমনই ওয়াক্ফ সম্পত্তি সম্পূর্ণভাবে ওয়াক্ফ ব্যবস্থার অধীনেই সুরক্ষিত থাকবে।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের আনা নতুন ওয়াক্ফ সংশোধনী আইন, ২০২৫-এর বিরুদ্ধে তাদের আপত্তি আগের মতোই বহাল রয়েছে। এই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য ওয়াক্ফ বোর্ড ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজ্য বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাশ করে কেন্দ্রকে ওই বিল প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছে। তাই রাজ্য সরকার নাকি ওয়াক্ফ সম্পত্তি হস্তান্তরে সম্মতি দিচ্ছে, এই ধরনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
ওয়াক্ফ সংক্রান্ত তথ্য নতুন উমিদ পোর্টালে তোলার বিষয়ে সরকার জানিয়েছে, এটি সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ মেনেই করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে থাকা প্রায় ৮২ হাজারের বেশি ওয়াক্ফ সম্পত্তির তথ্য আগে থেকেই কেন্দ্রের পুরোনো ওয়ামসি পোর্টালে নথিভুক্ত রয়েছে। নতুন পোর্টালে তথ্য আপলোডের ফলে সম্পত্তির মালিকানা বদলে যাবে, এই আশঙ্কার কোনও কারণ নেই বলে জানানো হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় মূল পরিবর্তন হল, আগে রাজ্য ওয়াক্ফ বোর্ডের মাধ্যমে তথ্য নথিভুক্ত হত, এখন সংশ্লিষ্ট মুতাওয়াল্লিরা নিজেরাই সেই তথ্য জমা দেবেন। এই কাজে সাহায্যের জন্য জেলা ও ব্লক স্তরে অতিরিক্ত ডাটা এন্ট্রি কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২৩ হাজারেরও বেশি ওয়াক্ফ সম্পত্তির বিবরণ ইতিমধ্যেই আপলোড করা হয়েছে।
বাকি সম্পত্তির তথ্য জমা দেওয়ার জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হলে, রাজ্য ওয়াক্ফ ট্রাইব্যুনাল আরও ছয় মাস সময় দিয়েছে। এছাড়া, অতীতে ভুল নথিভুক্তির কারণে কিছু মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহ জেলা প্রশাসনের নামে চলে গিয়েছিল, সেগুলিও সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


