হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত এক সর্বভারতীয় মহিলা সম্মেলনে দেশজুড়ে মহিলাদের অবস্থান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আসা প্রতিনিধিরা জানান, ধর্মীয় আচার ও উৎসবকে সামনে রেখে মহিলাদের ব্যস্ত রাখা হচ্ছে, যাতে তাদের মূল অধিকার ও সামাজিক প্রশ্নগুলি আড়ালে চলে যায়। অভিযোগ, সংঘ ও বিজেপির মদতে বহু জায়গায় ঘরোয়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ধীরে ধীরে বিভাজনের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভয় দেখানো, অর্থের প্রলোভন এবং নানা প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। ভোটের সময় রাজ্যজুড়ে বিপুল অর্থ খরচ করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রতিনিধিরা বলেন, সচেতনভাবে মহিলাদের ভাবনাচিন্তায় প্রভাব ফেলা হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা হারালেও প্রতিবাদ করতে না পারেন।
উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, হরিয়ানা, অসম, ত্রিপুরা ও উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যগুলি থেকে আসা প্রতিনিধিরা মহিলাদের উপর বাড়তে থাকা হিংসা, কাজের অভাব এবং পারিবারিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন। তাদের আশঙ্কা, অপরাধীদের বারবার ছাড় পেলে মহিলাদের উপর অত্যাচার কমবে না। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার চাপ, মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সংকট নিয়েও আলোচনা হয়।
ঝাড়খণ্ডের প্রতিনিধিরা জানান, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় জমি ও জীবিকার উপর আক্রমণ বেড়েছে। জম্মু-কাশ্মীর থেকে আসা নেত্রীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্ব বাড়ছে, আপেল চাষের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলি নানা সমস্যায় পড়ছে। রাস্তা বন্ধ থাকা ও পরিকাঠামোর অভাবে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর দমননীতি ও বিচার না পাওয়ার কারণে মহিলাদের মধ্যে ভয় ছড়িয়েছে।
আসামের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, আর্থিক সহায়তার নামে দেওয়া টাকা শেষ পর্যন্ত ঋণের কিস্তি মেটাতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে। ফলে লাভবান হচ্ছে ঋণ সংস্থাগুলি, মহিলারা পড়ছেন আইনি নোটিসের চাপে। মণিপুরের প্রতিনিধিরা জানান, সেখানে প্রতিবাদ করার সুযোগ প্রায় নেই।
বিহার ও উত্তরাখণ্ড থেকে আসা প্রতিনিধিরা বলেন, ভোটের আগে টাকা ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং ধর্মের নামে বিভাজন বাড়ছে। উত্তর প্রদেশের নেত্রীরা জানান, লোকউৎসবকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হয়েছে, অথচ নারী নির্যাতনের অধিকাংশ অভিযোগ নথিভুক্তই হয় না।


