উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এইচটি লিডারশিপ সামিট ২০২৫-এ ধর্মীয় বিরোধ নিয়ে নতুন মন্তব্য করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অযোধ্যা মামলার পর সরকার এখন সব স্থানে পৌঁছবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন তিনি। তার বক্তব্য থেকেই কাশী ও মথুরার মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় স্থানের প্রসঙ্গ আবার সামনে আসে। বরাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ ও মথুরার শাহী ঈদগাহ নিয়ে চলা বিতর্ক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে যোগী বলেন, “আমরা সব জায়গায় পৌঁছব, অনেক জায়গায় তো পৌঁছে গেছি।” তার দাবি, অযোধ্যা রায় দেশকে দেখিয়েছে গণতন্ত্র কতটা শক্তিশালী এবং সমাজের উচিত নিজের ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করা।
তবে মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর মতে, এই ধরনের মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়,এটি এক বৃহত্তর ধারার অংশ যেখানে মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে বারবার আদালত, রাজনৈতিক প্রচার ও জনমত সংগঠনের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর থেকে এবং ২০১৯ সালের রায়ের পর এমন দাবিদাওয়া আরও তীব্র হয়েছে।
জ্ঞানবাপীকে মসজিদ নিয়ে মামলাগুলিতে দাবি করা হচ্ছে, মসজিদের নীচে পূর্বের একটি মন্দিরের অংশ রয়েছে এবং সেই কারণেই এলাকায় হিন্দুদের অধিক নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। মথুরাতেও একই মামলা চলছে, যেখানে শাহী ঈদগাহকে সরিয়ে মন্দিরের অংশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠছে। তবে মুসলিম সংগঠনগুলো বলছে, এই সব অভিযোগের পেছনে মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানো।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলা ১৯৯১ সালের প্লেসেস অব ওয়ারশিপ অ্যাক্টকে দুর্বল করে, যে আইনে ধর্মীয় স্থানের চরিত্র পরিবর্তন না করার স্পষ্ট নির্দেশ আছে। তাদের আশঙ্কা, এমন প্রবণতা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়াবে।
অধিকারকর্মীদের দাবি, যোগীর মন্তব্য প্রমাণ করে যে দেশজুড়ে মুসলিম ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি বড় রাজনৈতিক প্রচারের শুরু হয়েছে।


