অসমের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গকে ঘিরে তৈরি একটি বহুল পরিচিত ম্যুরাল সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। গুয়াহাটির গণেশগুড়ি উড়ালপুলের নিচে থাকা এই ম্যুরালটি বহু বছর ধরে পথচলতি মানুষ ও জুবিন অনুরাগীদের কাছে একটি পরিচিত চিহ্ন হিসেবে পরিচিত ছিল। সম্প্রতি গুয়াহাটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (জিএমসি) সেটি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নানা মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।ম্যুরালটিতে জুবিন গর্গের ছবি এবং “কমরেড নেভার ডাই” লেখা ছিল। অনেকের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি দেয়ালচিত্র ছিল না, বরং অসমের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জুবিন গার্গের শিল্পীসত্তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। তাই এটি সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন।এই ঘটনার পর জুবিন গর্গের স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গার্গ সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন। ফেসবুকে দেওয়া সেই বার্তায় তিনি নিজের দুঃখের কথা জানালেও কোনও ক্ষোভ বা রাগ প্রকাশ করেননি। বরং তিনি বলেছেন, একটি ছবি বা ম্যুরাল মুছে ফেলা সম্ভব হলেও মানুষের হৃদয়ে থাকা ভালোবাসা এবং সম্পর্ককে কখনও মুছে ফেলা যায় না।গরিমা প্রশ্ন তোলেন, জুবিন গর্গের প্রতিকৃতি কি সত্যিই শহরের সৌন্দর্যের ক্ষতি করছিল? তিনি লেখেন, এই ম্যুরাল হয়তো আর চোখে দেখা যাবে না, কিন্তু জুবিনের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা রয়েছে, তা কোনও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শেষ করা সম্ভব নয়।তিনি আরও বলেন, যাঁরা আবেগ, বিশ্বাস এবং সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন, তাঁরা সবসময়ই জুবিন গর্গকে নিজের মনে স্থান দেবেন। কোনও দৃশ্যমান প্রতীক না থাকলেও সেই সম্মান ও ভালোবাসা অটুট থাকবে।গরিমার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি এই ঘটনায় ব্যথিত হলেও বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখার চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় কোনও দেয়ালে আঁকা ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং মানুষের মনেই তাঁর আসল জায়গা তৈরি হয়।এদিকে ম্যুরাল সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। বহু অনুরাগী মনে করছেন, এই দেয়ালচিত্রটি ছিল অসমের মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। তাঁদের মতে, জুবিন গর্গ শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি অসমের সাংস্কৃতিক জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাই এই ম্যুরাল অপসারণের ঘটনা অনেকের মনেই গভীর প্রভাব ফেলেছে।
গুয়াহাটিতে সরানো হল জুবিন গর্গের ‘কমরেড নেভার ডাই’ ম্যুরাল,আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জুবিন-পত্নী গরিমার
Popular Categories


