ইরানের মিনাব শহরে বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনাটি এবার জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অস্বস্তি হয়ে আছড়ে পড়ল মার্কিন শিবিরের ওপর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে “যুদ্ধের একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফাইয়ের আড়ালে ওয়াশিংটন প্রকারান্তরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হওয়া ওই প্রাণঘাতী হামলার দায়ই স্বীকার করে নিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরুর প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সে সময় ঘটনার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মার্কিন প্রশাসন দায় চাপিয়েছিল খোদ তেহরানের ওপর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তখন দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিজেদের স্কুলেই আঘাত হেনেছে। তবে অতি সম্প্রতি খোদ মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্ট ফাঁস হয়ে যাওয়ায় হোয়াইট হাউসের সেই পুরনো দাবি ধোপে টেকেনি। ওই গোপন রিপোর্টে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, মিনাবের সেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পেছনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভুল নিশানাই দায়ী ছিল।
ফাঁস হওয়া সেই রিপোর্টের সূত্র ধরেই জি-৭ সম্মেলনে বিশ্ব গণমাধ্যম মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চেপে ধরে। “আমেরিকা কি এই গণহত্যার দায় নেবে?”— সাংবাদিকদের এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধের মধ্যে এমন ভুল হতেই পারে। মেয়েদের স্কুলে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালায়নি।” এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্টটি আন্তর্জাতিক মহলের সামনে প্রকাশ করা হবে কি না— সাংবাদিকদের এমন পরবর্তী প্রশ্নটি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মিনাব ট্র্যাজেডি নিয়ে আমেরিকার এই অবস্থান বদল আগামী দিনে আন্তর্জাতিক আইন এবং ওয়াশিংটনের সামরিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলতে চলেছে।


