Tuesday, July 21, 2026
27.3 C
Kolkata

মোদী-র বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিল সমাজের নানান স্তরের ৭০০ জন বিশিষ্টরা

ভোটের আবহে দেশের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি সংসদের বিরোধী সদস্যদের সম্মানহানি করেছেন এবং নিয়ম ভেঙেছেন।

মঙ্গলবার এই ইস্যুতে কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেনুগোপাল লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা-র কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেখানে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন যা সংসদের নিয়ম ও বিরোধী দলের অধিকারকে আঘাত করে। এই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার লঙ্ঘনের নোটিস দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস চায়, বিষয়টি দ্রুত স্বাধিকার রক্ষা কমিটির কাছে পাঠানো হোক এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ এপ্রিল। ওইদিন লোকসভায় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিল পাশ করাতে পারেনি সরকার। বিরোধীরা একজোট হয়ে তা আটকে দেয়। এর পরদিন টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, সেই বক্তব্যে শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে।

এদিকে শুধু সংসদেই নয়, নির্বাচন কমিশনের কাছেও প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। বিভিন্ন বিরোধী দল দাবি করেছে, তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি মানেননি। যদিও এই বিষয়ে এখনও নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রায় ৭০০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের একটি চিঠি। এর মধ্যে রয়েছেন এম এ বেবি এবং সন্তোষ কুমার-এর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি মাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী নিয়মের পরিপন্থী।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দূরদর্শন এবং অল ইন্ডিয়া রেডিও-র মতো সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচার করা হয়। এই সময় দেশের কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছিল, ফলে এই কাজকে নিয়মভঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, কেরালা, অসম, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে তখনও নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর ছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে প্রচার চালানো হলে তা শাসক দলের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে এবং নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অভিযোগপত্রে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন আমলা, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং সমাজকর্মীরা। গোটা বিষয়টি নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories