Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

জনসমাগমের আকার বুঝতে ব্যর্থ প্রশাসন, দিল্লির আন্দোলনে এবার মোদির পদত্যাগেরও দাবি

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা সংসদ অভিযান ঘিরে সোমবার কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানীর একাংশ। প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশের এলাকায় মোতায়েন ছিল হাজার হাজার পুলিশকর্মী, র‌্যাফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। তবুও আন্দোলনকারীদের ঢল সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে।

প্রথমে যন্তর মন্তর এলাকাতেই বিক্ষোভ সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিড় ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। রাইসিনা মার্গ, জনপথ, রফি মার্গ, অশোক রোড, রাজেন্দ্র প্রসাদ রোড এবং ইন্ডিয়া গেট সংলগ্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এতে যান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মধ্য দিল্লির বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের কিছু প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও যান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। তবে এতসব প্রস্তুতির পরেও আন্দোলনকারীদের সংখ্যা প্রশাসনের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় চাপ বাড়তে থাকে।

বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড অতিক্রম করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ ওঠে। বহু আন্দোলনকারীকে আটকও করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির উপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পরে জানা যায়, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান, পাঞ্জাব এবং মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু যুবক-যুবতী কয়েকদিন ধরেই দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন। বিভিন্ন সূত্রের মতে, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই বিপুল উপস্থিতি প্রশাসনের কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্দোলনের মূল দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়েও স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। কিছু ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, এই আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। যদিও আন্দোলনকারীরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

দিনভর উত্তেজনার পরও আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। ফলে আগামী দিনেও রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Hot this week

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

অগ্নিনিরাপত্তায় বড়সড় গলদ! অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার কড়া নোটিস দমকলের

কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের...

Related Articles

Popular Categories