সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই তুমুল হট্টগোলের জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়ল লোকসভা। অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ গায়েব হওয়ার অভিযোগ এবং বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয় বিরোধী শিবির। দিনভর বিক্ষোভ, স্লোগান এবং প্রতিবাদের জেরে একাধিকবার অধিবেশন স্থগিত রাখতে বাধ্য হন স্পিকার।
সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় প্রবেশ করার সময় শাসকদলের সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তার পাল্টা হিসেবে বিরোধী বেঞ্চ থেকেও জোরালো স্লোগান ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই সংসদের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হইচই বাড়তে থাকায় প্রধানমন্ত্রী অল্প সময়ের মধ্যেই সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান বলে জানা যায়।
এদিন কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ একজোট হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিচ্ছে না কেন্দ্র। পাশাপাশি বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নিয়েও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অন্যান্য নির্ধারিত কাজ চালানোর চেষ্টা করা হলেও বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে তা সম্ভব হয়নি। সংসদের ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ দেখান বহু সাংসদ। তাঁদের হাতে বিভিন্ন দাবিদাওয়া লেখা প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়। পরিস্থিতি বারবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় স্পিকার কয়েক দফায় অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন। শেষ পর্যন্ত দিনের বাকি কাজও আর এগোয়নি।
সংসদের বাইরে একই সময়ে চলছিল ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বাইরে আন্দোলন এবং ভিতরে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদের ফলে গোটা সংসদ চত্বর জুড়েই ছিল চাপা উত্তেজনা।
বিরোধী নেতাদের দাবি, রামমন্দির ট্রাস্ট গঠনের সময় থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই অনুদানের অর্থ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সেই কারণেই অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই বিরোধী দলগুলির নেতারা বৈঠকে বসে যৌথ কৌশল তৈরি করেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।


