কলকাতার তপসিয়া গোবরা এলাকায় পুজোর চাঁদা না দেওয়ায় এক পরিবারের উপর বর্বর মারধরের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা চাঁদা না দেওয়ায় অমিত সরকার নামে এক ব্যক্তির পরিবারকে রাস্তায় ফেলে মেরেছে। ফলে অমিতের ভাই, স্ত্রী এবং বাবা পর্যন্ত আহত হয়েছেন। পুলিশ এই ঘটনায় দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে—দীপক দে ওরফে চিনা বাবু এবং রবিন গঞ্জালভেস। তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে, আর মোট আটজনের নামে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে যখন অমিত সরকারের একটি দোকান থেকে ৩,০০০ টাকা এবং অন্য দোকান থেকে ১,০০০ টাকা চাঁদা চাওয়া হয় লিখিতভাবে। মৌখিকভাবে আরও ৬,০০০ টাকার দাবি ওঠে, মোট ১০,০০০ টাকা। চাঁদা না দেওয়ায় অমিতের ভাইকে প্রথম গালাগালি করা হয়। শুনে অমিত নীচে নামেন, তখনই বাকবিতণ্ডা শুরু। হঠাৎই বাঁশের রড এবং লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা বাঁচাতে গিয়ে সবাই আক্রান্ত হন। অভিযোগকারীরা গোবরা উজ্জ্বল সঙ্গের সদস্য, যারা পুজোর আয়োজন করে।
আক্রান্ত পরিবারের দেওয়া একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, চিনা বাবু এবং রবিন মারধর করছেন। ভিডিওটি পুলিশের হাতে পৌঁছে যায়, আর তদন্ত শুরু হয়। অভিযুক্তরা গতকাল রাতে কলকাতা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে যান। কিন্তু পুলিশের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাকিংয়ে তাদের ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্র বলছে, তাদের পালানোর খবর আগেই ছিল। বাকি ছয়জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এদিকে, অমিত সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা বলছেন, অমিত আগে ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলেন, কিন্তু চিনা বাবু নতুন সেক্রেটারি হলে ব্যানার-পোস্টার নিয়ে বচসা শুরু হয়। দুই পক্ষই তৃণমূলের সদস্য বলে জানা গেছে, কিন্তু অমিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ এসবও খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, পুজোর নামে চাঁদা আদায়ের অভ্যেস কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবন বিষাক্ত করে তুলছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এই অত্যাচারের জন্য দোষীদের কঠোর শাস্তি চান। পুলিশের তদন্ত চলছে, কিন্তু এলাকায় ক্ষোভের পরিবেশ।


